দুই বছর আগে ভৌতিক অ্যান্থোলজি সিরিজ আধুনিক বাংলা হোটেল দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন নির্মাতা কাজী আসাদ। এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের একটি গল্প নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। তাঁর নতুন চরকি অরিজিনাল ফিল্ম লাইফলাইন আজ রাতেই মুক্তি পাচ্ছে।
ছবির কেন্দ্রে রয়েছে অনন্যা নামের এক শহুরে তরুণী, যে বিশেষ এক উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয় দুর্গম পথে। কেন এই যাত্রা, কাকে খুঁজছে সে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে—এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এগিয়েছে কাহিনি। গল্পটিতে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, ত্যাগ ও মানবিক সম্পর্কের নানা স্তর তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
নির্মাতা কাজী আসাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি একটি সামাজিক নাটকধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। গল্পের ভাবনা শোনার পর তাঁর মনে হয়েছে, এটি বড় পরিসরে বলার মতো একটি গল্প। শুধু বিনোদন নয়, দর্শকদের জন্য কিছু অনুভূতি ও বার্তাও এতে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ছবির নাম লাইফলাইন রাখার পেছনের কারণ এখনই খোলাসা করতে রাজি নন নির্মাতা। তবে তিনি মনে করেন, দর্শক যদি একটানা পুরো ছবিটি মনোযোগ দিয়ে দেখেন, তাহলে গল্পের আবেগ ও মূল বক্তব্য আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রেলারে দেখা গেছে, বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত অনন্যা চরিত্রটি কাউকে খুঁজে বের করার মিশনে নেমেছে। এই অভিযানে তার সঙ্গী কোরবান, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেজওয়ান পারভেজ। দুর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে দুজনের মধ্যে যেমন মতবিরোধ দেখা যায়, তেমনি তৈরি হয় এক ধরনের মানবিক বন্ধনও।
রেজওয়ান পারভেজ মনে করেন, এটি মূলত মানুষের দায়িত্ববোধ ও সম্পর্কের গভীরতার গল্প। তাঁর চরিত্র কোরবান বাইরে থেকে কঠোর মনে হলেও ভেতরে রয়েছে কোমল অনুভূতি। দর্শক সহজেই চরিত্রটির সঙ্গে নিজেদের সংযোগ খুঁজে পাবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অভিনেতা জানান, গ্রামের সরু আইল ও অসমতল পথ দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দৃশ্য ধারণ করা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে সহশিল্পী মিমকে নিয়ে সেই পথে চলার সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়েছে।
বিদ্যা সিনহা মিমও শুটিংয়ের কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, প্রচণ্ড গরম এবং দুর্গম লোকেশনের কারণে অনেক দৃশ্য ধারণ করাই ছিল কঠিন। তবে গল্পের শক্তি ও চরিত্রের ভিন্নতা তাঁকে কাজটি করতে অনুপ্রাণিত করেছে।
মিম জানান, ছবির প্রচারণামূলক পোস্টারে বালুঘড়ির ভেতরে অনন্যাকে দেখানো হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে চরিত্রটির লড়াইয়ের প্রতীক। সেই সময়ের পরীক্ষায় অনন্যা সফল হবে কি না, তা জানতে হলে পুরো ছবিটি দেখতে হবে।
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনির মতে, লাইফলাইন এমন একটি গল্প, যেখানে চরিত্র, পরিবেশ ও আবেগের মধ্যে দেশীয় বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে। এই মৌলিকতাই ছবিটির প্রধান শক্তি।
উল্লেখ্য, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চরকির কোনো প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। ছবিটির গল্প নির্মাণে যুক্ত ছিলেন মাহমুদুল হাসান ও কাজী আসাদ, আর চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আসাদুজ্জামান আবীর এবং কাজী আসাদ।