ঢাকা

সহিংস রাজনীতি থেকে সরে না এলে রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে দলগুলো: শিবির সভাপতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও জনগণ দেশছাড়া করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হতে পারে না এবং এ ধরনের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।

রোববার (২১ জুন ২০২৬) রাতে রাজধানীর শাহবাগে এক বিক্ষোভ মিছিল–পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখা।

শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিক্ষোভ

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে জানা গেছে।

সমাবেশে বক্তারা গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

‘বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিযোগ শিবিরের

সমাবেশে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহকে “বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিতভাবে” হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। তিনি এ ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংস রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত থাকলে জনগণ যেকোনো বড় রাজনৈতিক শক্তিকেও প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

নূরুল ইসলাম হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অভিযোগ

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান বিএনপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে দেশের জনগণ যেন তাদের কাছে “ইজারা দেওয়া”।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে “দখলদারি ও অনিয়ম” চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতি

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু মুসা, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, এবং বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি ও যুবদলের নেতা–কর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।

নিহত সাইফুল্লাহ উপজেলার শিমুলতাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তদন্তের দাবি

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে শিবির।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স