দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে একটি জাতীয় নীতিকাঠামো (ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এই কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে ইউজিসি।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে নতুন কাঠামো
ইউজিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উচ্চশিক্ষা নীতিবিশেষজ্ঞ গ্রেস মুকুপা জাতীয় নীতিকাঠামো তৈরিতে সহযোগিতা করছেন। প্রস্তাবিত এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য একটি কার্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইউজিসি, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসি জানিয়েছে, নতুন নীতিকাঠামো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও সহজে একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারবে।
চালু হতে পারে ডুয়েল ও যৌথ ডিগ্রি কার্যক্রম
প্রস্তাবিত নীতিকাঠামোর আওতায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
এর মধ্যে রয়েছে—
দ্বৈত (ডুয়েল) ডিগ্রি কার্যক্রম;
যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম;
শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়;
যৌথ গবেষণা কার্যক্রম;
আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা।
ইউজিসির মতে, এসব কার্যক্রম চালু হলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন।
থাকছে ‘টু প্লাস টু’ মডেল
নতুন কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে ‘টু প্লাস টু’ মডেল চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইউজিসি।
এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদি একটি প্রোগ্রামের প্রথম দুই বছর বাংলাদেশে এবং পরবর্তী দুই বছর অংশীদার বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করবেন।
শিক্ষার্থীরা সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করলে উভয় প্রতিষ্ঠানের পৃথক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে একদিকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় ও জটিলতা কমবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্য
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও এই নীতিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউজিসি মনে করছে, একটি সুসংগঠিত জাতীয় কাঠামো থাকলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা পরিচালনা, শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্টরা
উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মাছুমা হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ইউজিসির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।