ঢাকা

আমেরিকার শাসনব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিল ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’

-


এক ঘোষণা, তারপর হঠাৎই শুরু এক দমবিহীন সংঘর্ষ। প্রায় তিন ঘণ্টা জুড়ে চলতে থাকা সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ যেন এক যুদ্ধ থেকে আরেক যুদ্ধে টেনে নেয় দর্শককে। শুরুটা হয় এক বিপ্লবী অভিযানে, যার প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে পুরো কাহিনিতে—অপহরণ, পালানো, ধাওয়া, আর এক পিতার অন্ধকার যাত্রা মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায়।

টমাস পিনচনের ১৯৯০ সালের উপন্যাস ‘ভাইনল্যান্ড’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি নির্মাণ করেছেন পল টমাস অ্যান্ডারসন। বিদ্রোহ, অভিবাসন, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য, দুর্নীতি আর নৈতিক সংকট—সবই এসেছে গল্পে। গুরুগম্ভীর বিষয়বস্তু থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটি গতি, উত্তেজনা ও তীক্ষ্ণ রসবোধে ভরপুর।

গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র পারফিডিয়া বেভারলি হিলস (টেয়ানা টেইলর), যিনি ‘ফ্রেঞ্চ ৭৫’ নামে এক কাল্পনিক বিপ্লবী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন। মেক্সিকো-আমেরিকা সীমান্তে তারা অভিবাসীদের মুক্ত করে। কিন্তু কর্নেল স্টিভেন লকজয় (শন পেন) এই বিপ্লবী নারীর প্রতি বর্ণবাদী ঘৃণার পাশাপাশি বিকৃত আকর্ষণ অনুভব করে। পারফিডিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে গল্পের শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় তাদের সম্পর্ক, বিশ্বাসঘাতকতা ও লড়াই মিলে তৈরি হয় এক অন্ধকার রাজনৈতিক প্রতিচ্ছবি।

১৬ বছর পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লকজয় নিজের অতীত মুছে ফেলার জন্য আবার নেমে পড়ে—এবার নিজের স্বার্থে। বিপরীতে দেখা যায় বিপ্লবী বব ফার্গুসনকে (লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও), যিনি এখন শুধু একজন বাবা, মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো সাধারণ মানুষ।

সিনেমাটি শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত স্তরেও এক মানবিক গল্প। আদর্শ ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব, বিশ্বাসের ভাঙন, এবং ইতিহাস মুছে যাওয়ার ভয়—সব মিলিয়ে এটি এক চিন্তাশীল অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

অভিনয়ে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও সংযত অথচ গভীর, আর শন পেন মূর্ত করে তুলেছেন এক নির্মম সামরিক কর্মকর্তার চরিত্রকে। পারফিডিয়া চরিত্রে টেয়ানা টেইলরও অনবদ্য।

চিত্রগ্রহণে মাইকেল বাউম্যানের কাজ প্রশংসনীয়—বিশেষ করে মরুভূমি ও সীমান্তের দৃশ্যগুলো সিনেমাটিকে চিত্রকর্মের মতো করে তুলেছে। জনি গ্রিনউডের সংগীত গল্পের উত্তেজনাকে আরও গভীর করেছে।

‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ মূলত যুদ্ধের এক নিরন্তর রূপক। এটি প্রশ্ন তোলে—ক্ষমতা, রাজনীতি আর জাতিগত বিভেদের এই লড়াই কি কখনো শেষ হবে? নাকি ইতিহাসের পৃষ্ঠা উল্টে আমরা কেবল নতুন নামে পুরোনো যুদ্ধেই ফিরে যাই?




কমেন্ট বক্স