নারী এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পথচিত্রটা যেন বারবার একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হার, এরপর রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হওয়া—গত আসরের সঙ্গে এবারের চিত্রও বেশ মিলে যাচ্ছে।
আজ সন্ধ্যায় দুবাইয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আসরের শেষ চারে এই ভারতের কাছেই ১০ উইকেটে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের। এবারও পরিস্থিতি খুব আশাব্যঞ্জক নয়। বরং কিছু জায়গায় আগের চেয়েও বেশি উদ্বেগ রয়েছে।
গ্রুপে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর বাংলাদেশ জিতেছে বাকি দুটি ম্যাচ। কিন্তু সেই জয়ও খুব একটা স্বস্তি দিতে পারেনি। প্রথমবার এশিয়া কাপে খেলা ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১২৯ রান করেও বাংলাদেশকে জিততে হয়েছে ৮ উইকেট হাতে রেখে। আর গ্রুপের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে তো একশ রান পার করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ব্যাটিংয়ের পুরোনো দুর্বলতাই এবারের আসরে সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য রান তোলাটাই যেন বড় পরীক্ষা। সেই দুর্বলতা নিয়েই আজ অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে নামতে হবে তাদের।
পরিসংখ্যানও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২৪ বার, যেখানে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটি। তবে প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে চান বাংলাদেশের ব্যাটার শারমিন আক্তার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের পর তিনি বলেছিলেন, ভারত টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু শিরোপা জিততে হলে এমন দলের বিপক্ষে খেলতেই হবে এবং সেই ম্যাচকে চাপ হিসেবে না দেখে উপভোগ করতে চান তাঁরা।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছিল ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে। ফাইনালে ভারতকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল তারা। এরপর আর কোনো আসরে ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
২০২২ সালে সিলেটে অনুষ্ঠিত আসরে ঘরের মাঠেই থাইল্যান্ডের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। পরের আসরে ভারতের কাছে সেমিফাইনালে থামে যাত্রা। এবারও ফাইনালের টিকিট পেতে হলে সেই ভারতকেই হারানোর কঠিন কাজটি করতে হবে।
ব্যাটিং নিয়ে যখন প্রশ্ন, তখন বাংলাদেশের ভরসা হয়ে উঠতে পারেন বোলাররা। বিশেষ করে দুবাইয়ের কন্ডিশনে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়াকে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে দেওয়া, শ্রীলঙ্কাকে ১১৫ রান তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেট হারাতে বাধ্য করা কিংবা আরব আমিরাতকে ৯ উইকেটে ৬৯ রানে আটকে রাখা—প্রতিটি ম্যাচেই বাংলাদেশের বোলিং ছিল বড় শক্তি।
পেসার মারুফা আক্তারও দারুণ ছন্দে আছেন। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই ইনিংসের শুরুতে বল হাতে উইকেট পেয়েছেন তিনি। চলতি এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটও তাঁর।
মারুফা যদি নিজের সেরা ছন্দ ধরে রাখতে পারেন এবং স্পিনাররা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন, তাহলে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য অঘটনের দরজা খুলে যেতে পারে। পরিসংখ্যানও সামান্য আশার আলো দেখাচ্ছে—ভারতকে যে তিনবার টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছে বাংলাদেশ, তার দুটিতে ভারতকে ১০২ ও ১০৯ রানের মধ্যে আটকে রেখেছিল তারা।
নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম বড় সাফল্যের মঞ্চ ছিল এই এশিয়া কাপই। সেই টুর্নামেন্টেই বছরের পর বছর ফাইনালের আগেই থেমে যাচ্ছে তাদের পথচলা। এবার কি সেই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় ছেদ টানতে পারবে বাংলাদেশ?
উত্তর মিলবে আজ দুবাইয়ে। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে ফাইনালে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।