ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ম্যাচেই বল হাতে দারুণ চমক দেখালেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর ৪ ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট এবং ইমরান তাহিরের দুর্দান্ত ৫ উইকেটের সুবাদে সেন্ট লুসিয়া কিংসকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স।
সিপিএলের শেষদিকে গায়ানার দলে যোগ দিয়েছেন মিরাজ। টুর্নামেন্টে এখন বাকি মাত্র আটটি ম্যাচ। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবীর পরিবর্তে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের কারণে নবী সিপিএল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
গায়ানার হয়ে এবারের আসরে দারুণ পারফর্ম করেছেন নবী। সাত ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে দলটির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও ছিলেন তিনি। এমন একজন খেলোয়াড়ের জায়গা পূরণ করা মিরাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে প্রথম ম্যাচেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের এই স্পিনার।
প্রভিডেন্সে ম্যাচের প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পান মিরাজ। ইনিংসের সপ্তম ওভারের শেষ বলে জন ক্যাম্পবেলকে লং অফে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে আরও দুই ব্যাটসম্যান—কেমল স্যাভরি ও চারিত আসালাঙ্কাকে সাজঘরে ফেরান।
স্যাভরিকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেললেও পরে দেখা যায়, রিভিউ নিলে বেঁচে যেতে পারতেন তিনি। রিপ্লেতে বলটি স্টাম্পে লাগার মতো অবস্থায় ছিল না। অন্যদিকে আসালাঙ্কা মিরাজের বলে উইকেটের পেছনে শাই হোপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ছিল অধিনায়ক ইমরান তাহিরের। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করেন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার। তাহির-মিরাজের স্পিন আক্রমণের সামনে সেন্ট লুসিয়া কিংস মাত্র ১১৯ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
জয়ের জন্য সেই রান তাড়া করতে নেমে অবশ্য খুব সহজে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি গায়ানা। ১৮.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে তারা। ব্যাট হাতে মিরাজের অবদান অবশ্য ছিল সামান্য—১ রান করে আউট হন তিনি।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তাহির। পুরস্কার গ্রহণের সময় মিরাজের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, নবীর অনুপস্থিতিতে তাঁর জায়গা পূরণ করতে মিরাজ দুর্দান্ত কাজ করেছেন। তাহিরের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে মিরাজ একজন বিশ্বমানের বোলার, আর তাঁকে দলে পাওয়াটা গায়ানার জন্য বড় সুবিধা।