বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে আসছে আইইএলটিএস টেস্টিং সেন্টার ‘ফিউচারএড’। প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি ভাষা প্রশিক্ষণ, আইইএলটিএস পরীক্ষা, উচ্চশিক্ষা-সংক্রান্ত পরামর্শ এবং ভিসা প্রসেসিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং, এক্সাম রেজিস্ট্রেশন এবং উচ্চশিক্ষার ভিসা প্রসেসিং সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে থাকে ফিউচারএড। ১৫ বছরের আইইএলটিএস টেস্টিং অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ব্রিটিশ কাউন্সিলের অন্যতম অফিশিয়াল পার্টনার হিসেবেও কাজ করছে তারা।
ফিউচারএডের দাবি, এ পর্যন্ত তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ঢাকার বনানীতে প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি ধানমন্ডিতে একটি শাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ফিউচারএড।
আইইএলটিএস প্রস্তুতিতে গুরুত্ব চার মডিউলে
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আইইএলটিএসের ভালো স্কোর গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পরীক্ষার চারটি মডিউল—লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং—নিয়ে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকলেই আইইএলটিএস পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত স্কোর পাওয়া সব সময় সহজ হয় না। পরীক্ষার ধরন, প্রশ্নের কৌশল, উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি এবং সময় ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে ফিউচারএডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি পরীক্ষাভিত্তিক কৌশলের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চারবার ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘কান্ট্রি টপ পারফরমার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে তারা।
আইইএলটিএস প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরীক্ষার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করাতে কম্পিউটার-ডেলিভারড পরীক্ষার অনুরূপ ল্যাব ও ক্লাসরুমে মক টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার পরিবেশ, সময় ব্যবস্থাপনা এবং কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষার পদ্ধতির সঙ্গে আগেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
রাইটিং ও স্পিকিংয়ে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও ফিডব্যাকের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রশিক্ষিত ও সার্টিফায়েড শিক্ষকদের মাধ্যমে এসব মডিউলে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের কোর্স ও ব্যাচ
শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের সময়ের ভিন্নতা বিবেচনায় বিভিন্ন সময়ের ব্যাচ পরিচালনা করছে ফিউচারএড। নিয়মিত আইইএলটিএস প্রিপারেশন কোর্সের পাশাপাশি ক্র্যাশ কোর্স, বেসিক ও স্পোকেন ইংলিশ, কিডস স্পোকেন ইংলিশ এবং গ্যারান্টেড আইইএলটিএস কোর্সসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী আইইএলটিএস রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষা এবং বিভিন্ন কোর্স-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করছেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য একসঙ্গে পরামর্শ ও আবেদন সহায়তা
আইইএলটিএস প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং ও আবেদন-সংক্রান্ত সহায়তাও দিয়ে থাকে ফিউচারএড। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দুই হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তারা সরাসরি কাজ করছে।
বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে দেশ বা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন শুধু পছন্দের ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, কাঙ্ক্ষিত বিষয়, আর্থিক সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা ও ভর্তি-সংক্রান্ত শর্ত বিবেচনা করাও জরুরি। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীর প্রোফাইল বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপযুক্ত দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফিউচারএডের উচ্চশিক্ষা-সংক্রান্ত সেবার মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) প্রস্তুতি, রেকমেন্ডেশন লেটার, ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং ভিসা প্রসেসিং-সংক্রান্ত সহায়তা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্রিয়া অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত অফার লেটার পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
স্কলারশিপ ও ক্যারিয়ার পরামর্শ
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় বিষয় হওয়ায় স্কলারশিপের সুযোগ সম্পর্কেও তথ্য ও পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফিউচারএড। শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রোফাইল ও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য স্কলারশিপের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আবেদন প্রস্তুতিতেও সহায়তা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, তাদের সেবা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা ভিসা পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিসা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপ এবং পেশাগত যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
ফিউচারএডের সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একেকজনের পরিস্থিতি ও লক্ষ্য ভিন্ন। তাই সবার জন্য একই ধরনের পরামর্শের পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রোফাইল, সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে সেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফল বা আর্থিক সক্ষমতার ভিন্নতার মধ্যেও উপযুক্ত সুযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। আইইএলটিএস প্রস্তুতি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদন এবং ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য একটি সহজতর প্রক্রিয়া তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।
যোগাযোগ: ০১৩২৪-৭৩৬৬৭৯, ০১৩৩৫-১৩৪৯৭৮, ০১৩২৪-৭৩৬৬৮৪
ঠিকানা: আহমেদ টাওয়ার (ষষ্ঠ ও নবম তলা), ২৮ ও ৩০ কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানী, ঢাকা।