ঢাকা

মাল্টা, পোলাওয়ের চাল ও ডিমের দামে নাহিদের প্রশ্ন, অভিযোগ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মাল্টা, পোলাওয়ের চাল, ডিম ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ার জন্য অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু সিন্ডিকেট। আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলেও বিভিন্ন পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। পোস্টে তিনি কয়েকটি পণ্যের আমদানি মূল্য ও বাজারদরের তুলনা তুলে ধরে দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
৮৭ টাকার মাল্টা ৫৫০ টাকা

নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে দাবি করেন, গত দুই মাস ধরে বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা প্রায় ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমদানিসংক্রান্ত নথিতে প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তাঁর হিসাব অনুযায়ী, আমদানি শুল্ক, পরিবহন ব্যয় এবং ব্যবসায়ীদের মুনাফা যুক্ত করার পরও প্রতি কেজি মাল্টার সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাল্টার দাম বৃদ্ধির পেছনে বাজারে সরবরাহ–সংকটের যুক্তি দেওয়া হলেও আমদানির পরিসংখ্যান সেই দাবিকে সমর্থন করে না বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।

তাঁর দেওয়া হিসাবে, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে দেশে অন্তত ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। এরপরও বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরবরাহ বাড়ার পরও কেন ভোক্তাদের বেশি দামে মাল্টা কিনতে হচ্ছে।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, শুধু মাল্টার দাম বাড়ানোর মাধ্যমে গত দুই মাসে অসাধু সিন্ডিকেট ভোক্তাদের কাছ থেকে কয়েক শ কোটি টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে।
পোলাওয়ের চাল দ্বিগুণ দামে বিক্রির অভিযোগ

পোলাওয়ের চালের দাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, ১২০ টাকা কেজি দামের পোলাওয়ের চাল বাজারে ২৪০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শুধু পোলাওয়ের চালের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে গত তিন মাসে আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।

তবে তাঁর পোস্টে এই অতিরিক্ত অর্থের হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, তার বিস্তারিত পদ্ধতি তুলে ধরা হয়নি।
ডিমের দাম বাড়া নিয়েও প্রশ্ন

ডিমের বাজারদর নিয়েও নিজের পোস্টে হিসাব দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ১২০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধির কথা বলা হলেও সেই ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাব হিসাব করলেও প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা বলে মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় পাঁচ টাকা বেড়েছে বলে দাবি করেন নাহিদ।

তাঁর মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতার বাইরে বাজারে যে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সরকারি দামের চেয়ে বেশি এলপিজি বিক্রির অভিযোগ

১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, কয়েক দফা দাম বাড়ানোর পরও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অন্তত ১ হাজার টাকা বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে এলপিজির আমদানি পর্যাপ্ত রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরবরাহে ঘাটতি না থাকলে বাজারে অতিরিক্ত দামের কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রতিদিন অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা কারা নিচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
‘আবারও সিন্ডিকেটের কবলে দেশ’

পণ্যের দাম বৃদ্ধির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ‘ফ্যাসিবাদী আমলের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ের মতো আবারও দেশের বাজার অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি মূল্য, শুল্ক, পরিবহন ব্যয় ও বাজারদরের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকলে সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়লে এর পেছনে কারা দায়ী, তা শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।

সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাজারে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তাঁর এসব বক্তব্য ও হিসাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা সরকারি সংস্থার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স