প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে, যেখানে কোনো নাগরিকের ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয় তাঁর অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ–প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সভার বিষয়টি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, সম্প্রদায়, শ্রেণি কিংবা পেশার পার্থক্য না করে দেশের সব মানুষের কল্যাণে সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উত্থাপিত যৌক্তিক সমস্যা ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন তিনি।
সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তাঁদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ পূজার উৎসবকে আরও আনন্দময় করে তুলবে।
মতবিনিময়ের সময় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষকেও শুভেচ্ছা জানান তিনি। দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আর্থিক সহায়তার চেকও হস্তান্তর করা হয়। দুর্গাপূজার জন্য হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে পাঁচ কোটি টাকা এবং কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এর আগে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য চার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করেন। একইভাবে বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দুই কোটি টাকা চাওয়া হলেও বরাদ্দ দেওয়া হয় তিন কোটি টাকা।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা তাঁদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য সুবর্ণা ঠাকুর শিকদার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ ওঁরাও, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।