ঢাকা

স্থূল শিশু-কিশোরদের চিকিৎসায় জীবনযাপন পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার ডব্লিউএইচওর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা মোকাবিলায় ওজন কমানোর ওষুধের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং কাউন্সেলিংয়ের মতো জীবনযাপন পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শিশু–কিশোরদের স্থূলতা মোকাবিলায় সংস্থাটির প্রথম বৈশ্বিক নির্দেশিকায় এ সুপারিশ করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু–কিশোরদের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর ওষুধ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ওষুধ ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো এবং কাউন্সেলিংয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল না দিলে তখন ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
আগে জীবনযাপনে পরিবর্তন

ডব্লিউএইচওর সুপারিশের মূল লক্ষ্য হলো শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। সংস্থাটির মতে, শুধু ওজন কমানোর জন্য ওষুধের ওপর নির্ভর না করে শিশু–কিশোরদের খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং মানসিক ও সামাজিক আচরণের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

নির্দেশিকায় বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিংয়ের সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ স্থূলতার চিকিৎসাকে শুধু শরীরের ওজন কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনযাপনের সামগ্রিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ওষুধের সুযোগ

ডব্লিউএইচও বলেছে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী স্থূলতায় আক্রান্তদের জন্য ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে এটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়নি।

প্রথমে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং কাউন্সেলিংয়ের মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরও যদি কাঙ্ক্ষিত ফল না আসে, তখন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশু ও কিশোরদের শারীরিক বিকাশ চলমান থাকায় তাদের ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সময় বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় বিবেচনায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অপুষ্টির ধরন বদলাচ্ছে

একসময় শিশু ও কিশোরদের মধ্যে অপুষ্টির প্রধান সমস্যা হিসেবে কম ওজনকে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা শিশু–কিশোরদের জন্যও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে সামনে এসেছে।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, কম ওজনের তুলনায় অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু–কিশোরের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে শিশুদের পুষ্টি নিয়ে আলোচনায় শুধু অপুষ্টি বা কম ওজন নয়, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শৈশব ও কৈশোরে স্থূলতা পরবর্তী জীবনেও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এ কারণে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দিচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।
ওজন কমানোর ওষুধ নিয়ে এখনো প্রশ্ন

ডব্লিউএইচওর পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া দে রেগিল বলেন, স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওজন কমানোর ওষুধ সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এসব ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, ওষুধগুলোর কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা বিষয়ে চলমান গবেষণা পর্যবেক্ষণ করছে ডব্লিউএইচও।

ফলে শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা মোকাবিলায় ওষুধকে একমাত্র বা প্রথম সমাধান হিসেবে না দেখে জীবনযাপন পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিই নতুন নির্দেশিকায় প্রাধান্য পেয়েছে।

বিশ্বজুড়ে শিশু–কিশোরদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার প্রবণতা বাড়তে থাকায় এ বিষয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর সমাজের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব বাড়ছে। ডব্লিউএইচওর নতুন নির্দেশিকা সেই দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার দিকেই জোর দিয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স