ঢাকা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক: দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি রক্ষায় নেতাদের নির্দেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান, গঠন পর্যবেক্ষণ কমিটি | নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাত ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা

আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। কোনো মহল যাতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবকে নির্বিঘ্ন, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে কেউ যাতে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ষড়যন্ত্র ও উসকানির বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, বৈঠকে আসন্ন দুর্গাপূজা কীভাবে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার বিষয়েও নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘একটি মহল দেশের ও গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী অপপ্রচার, অপকীর্তি ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। সরকার তার দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। আমাদের নেতা-কর্মীদের এ বিষয়ে সদা সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও সতর্কতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসবের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দায়িত্বশীল আচরণ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ

দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাজারে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদারকি জোরদার করে ভোক্তাদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়েও নেতারা মত দেন।

ব্যাংকিং খাত ও প্রবাসী আয় নিয়ে আলোচনা

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন নেতারা।

বৈঠক সূত্র জানায়, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে সচল রাখা এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্ব

বৈঠকে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন দলের শীর্ষ নেতারা। মাদক নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তরুণদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় উঠে আসে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এ বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, ফরহাদ হালিম ডোনার, ইসমাঈল জবিউল্লাহ ও আমানউল্লাহ আমানসহ দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার পাশাপাশি অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। দলীয় নেতাদের মতে, উৎসবকে নির্বিঘ্ন রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক নজর এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স