ঢাকা

যুব প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের পদত্যাগ চেয়ে অধিদপ্তর ঘেরাও এনসিপির যুবশক্তির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পাঁচ দফা দাবিতে মতিঝিলে কর্মসূচি, নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ সংগঠনটির

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রাজধানীর মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেরাও করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানায় সংগঠনটি। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন যুবশক্তির নেতা-কর্মীরা।

যুবশক্তির অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা, ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ করা। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঘেরাও কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুবশক্তির নেতারা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য পরীক্ষার আগের রাতেই প্রকাশ্যে এলেও পরীক্ষা শুরুর আগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন

ঘেরাও কর্মসূচিতে যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি ‘এক কোটি চাঁদাবাজ তৈরি করেছে’।

তারিকুল ইসলাম বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি থাকলেও সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো সচল করতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তরুণদের চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রসঙ্গ তুলে যুবশক্তির সভাপতি বলেন, পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য জানাজানি হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পরীক্ষা শুরুর আগে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

‘বিএনপি দ্রুত আওয়ামী লীগের মতো হওয়ার চেষ্টা করছে’

যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দলটি দ্রুত আওয়ামী লীগের মতো হওয়ার চেষ্টা করছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি উঠে আসে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন সংগঠনটির নেতারা।

তবে প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের ভিত্তি নিয়ে ফরহাদ সোহেলের প্রশ্নের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কর্মসূচিতে তুলে ধরা হয়নি।

‘ভাগ-বাঁটোয়ারায় গন্ডগোলের’ সন্দেহ

যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় পাওয়া তথ্য থেকে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও বিস্তৃত অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ হয়, এবার হয়তো ভাগ-বাঁটোয়ারায় গন্ডগোল লেগেছিল। এ জন্য কেউ না কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ করেছে। অন্যথা ঘটনাটি সামনে আসত না।’

রিফাত রশিদের এ বক্তব্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে বলে সংগঠনটির সন্দেহের বিষয়টি উঠে আসে। তবে ভাগ-বাঁটোয়ারা বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ কর্মসূচিতে উপস্থাপন করা হয়নি।

পাঁচ দফা দাবিতে কর্মসূচি

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে যুবশক্তি পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো—

১. যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের পদত্যাগ।

২. প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা।

৩. নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।

৪. ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ করা।

৫. বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে বেকার তরুণদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ও মেধাভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে তাঁদের মধ্যে হতাশা বাড়বে।

তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুবশক্তির এ কর্মসূচিতে নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সংগঠনটি প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট তথ্য সামনে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়ম নিয়ে যুবশক্তির বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবা প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স