ঢাকা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি: বাংলায় বিহারের পদ্ধতি চলবে না

-

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রয়োগ হবে না এবং ডিটেনশন ক্যাম্পও হবে না। মুখ্যমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেছেন, “মনে রাখবেন, আমি ভোট চাইতে আসিনি। নিশ্চিন্তে থাকুন, কাউকে তাড়াতে দেবো না।”

এ সময় তিনি বিজেপিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন—

“বিহারে যা করেছেন, বাংলায় হবে না।”

কৃষ্ণনগরে সভায় বক্তব্য

মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে এক জনসভায়, যেখানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভার ভাষণে তিনি নির্বাচনী পরিবেশ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন—

  • “ইলেকশন এখনও ডিক্লেয়ার হয়নি। তুমি ডিএমদের ভয় দেখাচ্ছো কেন?”

  • “মানুষকে বন্ডেড লেবার বানাতে চাইছো। আমরা তো বলেছিলাম, সময় নিয়ে এসআইআর করো, তাড়াহুড়ো কেন? হোয়াই সো হাঙ্গরি?”

মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির আইটি সেলের কাজের অভিযোগও তুলে ধরে বলেন,

“বিজেপির আইটি সেল ভোটার লিস্ট তৈরি করে দেবে। সেই লিস্ট ধরে ভোট করবেন? এটাই ইচ্ছা তো। বিহারে যা করেছেন, বাংলায় হবে না। এজেন্সি দিয়েও নয়।”

ধর্ম ও সামাজিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি ব্রিগেডে গীতাপাঠের সভাস্থলে মাংসযুক্ত প্যাটিস বিক্রির ঘটনায় বিক্রেতাদের মারধর ও হেনস্থা করার ঘটনাকে তিনি নিন্দা জানান। মমতা বলেন,

“প্যাটিস বিক্রেতাদের মারধর করা হয়েছে। কাল সবকটাকে গ্রেপ্তার করেছি। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়।”

তিনি ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ কর্মসূচিকে নিয়েও মন্তব্য করেন—

“গীতাপাঠ আমরা সবাই করি। তার জন্য পাবলিক মিটিং করার কী আছে? ধর্মাচারণ ব্যক্তিগত বিষয়, তা রাজনৈতিক প্রদর্শনের বিষয় হওয়া উচিত নয়।”

সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজের সূচনা

আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নে তিনি কৃষ্ণনগর থেকে ‘পথশ্রী’ ও ‘রাস্তাশ্রী’ প্রকল্পের চতুর্থ পর্ব’ শুরু করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নতুন সড়ক ও সংস্কার কাজের কাজ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় বলেন, নির্বাচনের আগে রাজ্যবাসীর সুবিধার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন হবে, তবে রাজনৈতিক চাপের কারণে কেউ বাধা দিতে পারবে না।





কমেন্ট বক্স