কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো পিএইচডি পর্যায়ে মেধাবী গবেষকদের আকৃষ্ট করতে ১০ কোটি কানাডীয় ডলারের বৃত্তি কর্মসূচি চালু করছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা নয়, বরং প্রায় ৮২০ কোটি টাকা—প্রতি কানাডীয় ডলার ৮২ টাকা ধরে। ‘প্রেসিডেন্টস ইমপ্যাক্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর ৫০ জন গবেষক চার বছর মেয়াদে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক নির্বাচিত শিক্ষার্থী বছরে ৮০ হাজার কানাডীয় ডলার করে পাবেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। চার বছর মেয়াদে একজন গবেষক সব মিলিয়ে পাবেন ৩ লাখ ২০ হাজার কানাডীয় ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এ বৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি দেওয়া শুরু হবে।
১০ কোটি কানাডীয় ডলারের তহবিল
ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর তথ্য অনুযায়ী, এ বৃত্তি কর্মসূচির জন্য একটি কানাডীয় পারিবারিক ফাউন্ডেশন ৫ কোটি কানাডীয় ডলার অনুদান দিয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিয়ে আসছে ফাউন্ডেশনটি।
ফাউন্ডেশনের দেওয়া অর্থের সমপরিমাণ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তহবিলে যুক্ত করেছে। ফলে অনুদান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়ন মিলিয়ে কর্মসূচিটির মোট তহবিল দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি কানাডীয় ডলার।
এ তহবিলের মাধ্যমে পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণারত মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে নির্বাচিত গবেষকেরা তাঁদের গবেষণার কাজে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন এবং পড়াশোনার ব্যয় মেটানোর জন্য অন্যান্য কাজের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর সুযোগ পাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির দাবি, কানাডায় এ ধরনের বৃত্তি কর্মসূচির মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৃত্তি কর্মসূচির সঙ্গেও এর তুলনা করা যায়।
বছরে ৫০ জন গবেষক পাবেন বৃত্তি
প্রেসিডেন্টস ইমপ্যাক্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় দীর্ঘমেয়াদে প্রতিবছর ৫০ জন পিএইচডি গবেষকের জন্য বৃত্তি বরাদ্দ থাকবে। তবে কর্মসূচি চালুর প্রথম বছরেই একসঙ্গে ৫০ জনকে বৃত্তি দেওয়া হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম দফায় নতুন শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া শুরু হবে। এরপর প্রতিবছর ১২ থেকে ১৩ জন করে নতুন গবেষক এ কর্মসূচিতে যুক্ত হবেন। এভাবে চার বছরের মধ্যে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছাবে।
কর্মসূচির চতুর্থ বছরে নতুন গবেষকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত ৫০ জনের সংখ্যা পূর্ণ হবে। এরপর থেকে প্রতিবছর ৫০ জন গবেষকের জন্য বৃত্তির সুযোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তি কর্মসূচির ফলে গবেষকেরা দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণায় সাধারণত দীর্ঘ সময়, নিয়মিত অধ্যবসায় এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন হয়। এ ধরনের বৃত্তি গবেষকদের এসব চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।
প্রত্যেক শিক্ষার্থী পাবেন বছরে ৮০ হাজার কানাডীয় ডলার
এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থী বছরে ৮০ হাজার কানাডীয় ডলার পাবেন। চার বছরে একজন গবেষকের জন্য মোট বরাদ্দ থাকবে ৩ লাখ ২০ হাজার কানাডীয় ডলার।
বৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সময় আর্থিক সহায়তা দেবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে পিএইচডি করতে গেলে টিউশন ফি, আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ধরনের উল্লেখযোগ্য অঙ্কের বৃত্তি তাঁদের আর্থিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বৃত্তির অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা যাবে, টিউশন ফি এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কি না, আবেদনকারীদের যোগ্যতার শর্ত কী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক গবেষকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে কানাডা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। উন্নত গবেষণাগার, অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এ পরিস্থিতিতে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর নতুন বৃত্তি কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেধাবী গবেষকদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ তৈরি করতে চাইছে।
বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী গবেষণায় আগ্রহী, কিন্তু বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাঁদের জন্য এ ধরনের বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও থাকতে পারে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কী সুযোগ রয়েছে
বাংলাদেশের যেসব শিক্ষার্থী বিদেশে পিএইচডি করতে চান, তাঁদের জন্য ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর এ কর্মসূচি সম্ভাবনাময় একটি সুযোগ হতে পারে। তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সরাসরি আবেদন করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার শর্ত ও আবেদন নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, পিএইচডি ভর্তি কার্যক্রম এবং বৃত্তি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে নিয়মিত নজর রাখা উচিত। আবেদন শুরুর তারিখ, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার প্রস্তাব, সুপারিশপত্র, ভাষাগত দক্ষতার শর্ত এবং অন্যান্য নথিপত্র সম্পর্কে আগেই ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া বৃত্তির অর্থের মধ্যে টিউশন ফি, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক খরচ অন্তর্ভুক্ত কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। কারণ বড় অঙ্কের বৃত্তি হলেও এর প্রকৃত আর্থিক সুবিধা নির্ভর করবে অর্থ প্রদানের নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট খরচের ওপর।
সব মিলিয়ে, ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর ১০ কোটি কানাডীয় ডলারের এ বৃত্তি কর্মসূচি পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণায় নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বৃত্তি প্রদান শুরু হলে ধাপে ধাপে ৫০ জন গবেষক এ সুবিধার আওতায় আসবেন। দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আকৃষ্ট করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিবিসি নিউজ