ঢাকা

ক্যারিয়ার উন্নয়নে বিদেশি ভাষা শেখার গুরুত্ব, এগিয়ে রাখবে যে ১০ ভাষা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ও পেশাগত দক্ষতাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন একাধিক ভাষায় যোগাযোগের সক্ষমতাও। শিক্ষা, ব্যবসা, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশল, পর্যটন, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষা জানার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বিশ্বায়নের যুগে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক ও সহকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে।

বিদেশি ভাষা শেখার মাধ্যমে অন্য দেশের সংস্কৃতি, কর্মপরিবেশ ও ব্যবসায়িক রীতিনীতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, গবেষণা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। কোন ভাষা শিখলে বেশি লাভবান হওয়া যাবে, তা অবশ্য নির্ভর করে ব্যক্তির পেশাগত লক্ষ্য, আগ্রহ এবং কাঙ্ক্ষিত দেশের ওপর।

আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং পেশাগত ব্যবহারের বিবেচনায় মান্দারিন, জাপানিজ, জার্মান, তুর্কি, স্প্যানিশ, কোরিয়ান, ফরাসি, আরবি, ইতালিয়ান ও রুশ ভাষা শেখার কথা বিবেচনা করতে পারেন আগ্রহীরা। বাংলাদেশেও এসব ভাষার কয়েকটি শেখার সুযোগ রয়েছে।

১. মান্দারিন চীনা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উৎপাদনশিল্পে সম্ভাবনা

বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে মান্দারিন চীনা ভাষার ব্যবহারিক গুরুত্ব অনেক। উৎপাদন, রপ্তানি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা ও প্রযুক্তি খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে হলে এ ভাষা জানা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

প্রকৌশল, অর্থায়ন, লজিস্টিকস, আমদানি-রপ্তানি এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রেও মান্দারিন জানা পেশাজীবীদের জন্য সহায়ক হতে পারে। চীন ছাড়াও তাইওয়ান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চীনা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাষাটি কাজে লাগে।

বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য মান্দারিন শেখা একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

২. জাপানিজ: প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও শিল্প খাতে এগিয়ে থাকার সুযোগ

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ইলেকট্রনিকস, গাড়ি নির্মাণ ও উন্নত উৎপাদনশিল্পের জন্য জাপান বিশ্বজুড়ে পরিচিত। দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে কিংবা জাপানি কোম্পানির সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে জাপানিজ ভাষা জানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণা ও উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সরবরাহব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রে জাপানি ভাষায় দক্ষতা কাজে লাগতে পারে। জাপানে উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তির সুযোগ খুঁজছেন, এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও ভাষাটি শেখা উপকারী।

বাংলাদেশ থেকে জাপানে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা থাকলে ভাষা শেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাপানিজ শেখার সুযোগ রয়েছে।

৩. জার্মান: ইউরোপে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের সম্ভাবনা

ইউরোপে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য জার্মান ভাষা একটি গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ। জার্মানি প্রকৌশল, গাড়ি নির্মাণ, উৎপাদনশিল্প, গবেষণা, ওষুধশিল্প এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য সুপরিচিত।

জার্মান ভাষা জানা থাকলে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, গবেষণার সুযোগ খোঁজা এবং জার্মান ভাষাভিত্তিক কর্মপরিবেশে কাজ করার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের কিছু অঞ্চলেও ভাষাটির ব্যবহার রয়েছে।

বিশেষ করে প্রকৌশলী, গবেষক, চিকিৎসা পেশাজীবী এবং প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য জার্মান শেখা উপকারী হতে পারে। তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা চাকরির জন্য কতটুকু ভাষাদক্ষতা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্তের ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এবং গোয়েথে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে জার্মান ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

৪. তুর্কি: ব্যবসা, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

তুরস্ক ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য তুর্কি ভাষা জানা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

পর্যটন, ব্যবসা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্প এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো ক্ষেত্রে ভাষাটি কাজে লাগতে পারে। তুরস্কে উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্যও তুর্কি শেখা উপকারী হতে পারে, যদিও সব প্রোগ্রামে তুর্কি ভাষা বাধ্যতামূলক নয়।

তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করা, দেশটির সংস্কৃতি বোঝা কিংবা সেখানে দীর্ঘমেয়াদে পড়াশোনা ও বসবাসের পরিকল্পনা থাকলে ভাষাটি শেখার গুরুত্ব আরও বাড়ে।

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে তুর্কি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

৫. স্প্যানিশ: বিস্তৃত আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে যোগাযোগের সুযোগ

স্প্যানিশ বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর একটি। স্পেন ছাড়াও লাতিন আমেরিকার বহু দেশে এটি প্রধান ভাষা। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, পর্যটন, গণমাধ্যম, শিক্ষা, বিপণন ও গ্রাহকসেবার মতো ক্ষেত্রে স্প্যানিশ ভাষার ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে।

স্প্যানিশ জানা থাকলে স্পেন ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সহজ হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে বহুভাষিক কর্মী হিসেবে কাজ করা, অনুবাদ, কনটেন্ট তৈরি এবং পর্যটনশিল্পে পেশাগত সুযোগ খোঁজার ক্ষেত্রেও ভাষাটি সহায়ক হতে পারে।

ইংরেজি জানা ব্যক্তিদের কাছে স্প্যানিশের কিছু শব্দ ও ব্যাকরণ পরিচিত মনে হতে পারে। তবে দক্ষতা অর্জনের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, কথোপকথন এবং শোনা-বোঝার চর্চা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে স্প্যানিশ ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে কাজ করতে কিংবা স্প্যানিশভাষী দেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহীদের জন্য এটি বিবেচনাযোগ্য একটি ভাষা।

৬. কোরিয়ান: প্রযুক্তি, শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সম্ভাবনা

দক্ষিণ কোরিয়া ইলেকট্রনিকস, গাড়ি নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ ও উৎপাদনশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় সংস্কৃতি—বিশেষ করে কে-পপ, কোরিয়ান নাটক ও চলচ্চিত্র—বিশ্বজুড়ে কোরিয়ান ভাষা শেখার আগ্রহও বাড়িয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, প্রশিক্ষণ কিংবা কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা থাকলে কোরিয়ান ভাষা জানা গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে। দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপন ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতেও ভাষাটি সহায়ক।

বাংলাদেশের যেসব শিক্ষার্থী দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা করতে চান কিংবা দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য কোরিয়ান শেখা কার্যকর হতে পারে। তবে চাকরির ধরন অনুযায়ী ভাষাদক্ষতার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য যোগ্যতাও প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোরিয়ান ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

৭. ফরাসি: কূটনীতি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ

ফরাসি ভাষা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি, পর্যটন, শিক্ষা এবং উন্নয়ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স ছাড়াও কানাডা, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড এবং আফ্রিকার বহু দেশে ভাষাটির ব্যবহার রয়েছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় ফরাসি ব্যবহৃত হয়। ফলে কূটনীতি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, অনুবাদ, গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য ভাষাটি শেখা উপকারী হতে পারে।

বিশেষ করে আফ্রিকার ফরাসিভাষী দেশগুলোতে উন্নয়ন প্রকল্প, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে ফরাসি জানা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে এসব পেশায় প্রবেশের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে ফরাসি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

৮. আরবি: মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান, ব্যবসা, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরবি ভাষার গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য আরবি জানা দৈনন্দিন যোগাযোগ ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

জ্বালানি, নির্মাণ, প্রকৌশল, আতিথেয়তা, পর্যটন এবং ব্যবসা খাতে আরবি ভাষার ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, গবেষণা, অনুবাদ এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কাজে আগ্রহীদের জন্য ভাষাটি বিশেষভাবে কার্যকর।

তবে আরবি ভাষার বিভিন্ন আঞ্চলিক কথ্যরীতি রয়েছে। তাই যে দেশে পড়াশোনা বা কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে, সেই দেশের ভাষাগত পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আরবি পড়া ও লেখার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরবি শেখার সুযোগ রয়েছে। আগ্রহীরা নিজেদের লক্ষ্য অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স বেছে নিতে পারেন।

৯. ইতালিয়ান: ফ্যাশন, ডিজাইন, শিল্পকলা ও খাদ্যশিল্পে সম্ভাবনা

ইতালি ফ্যাশন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, নকশা, খাদ্যশিল্প এবং বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাণের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এসব খাতে পড়াশোনা বা পেশাগত কাজের পরিকল্পনা থাকলে ইতালিয়ান ভাষা শেখা বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

ফ্যাশন ডিজাইন, শিল্প ও সংস্কৃতি, রন্ধনশিল্প, পর্যটন, আতিথেয়তা এবং ইতালীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাষাটি কাজে লাগতে পারে। ইতালিতে উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণের সুযোগ খুঁজছেন, এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও ভাষাটি শেখা সহায়ক।

ইতালিতে সব শিক্ষাক্রম বা কর্মক্ষেত্রে ইতালিয়ান ভাষা বাধ্যতামূলক নয়। তবে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং ইতালীয় ভাষাভিত্তিক কর্মপরিবেশে কাজ করার জন্য ভাষাটি জানা গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে।

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ইতালিয়ান ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

১০. রুশ: বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় সম্ভাবনা

রাশিয়ান ভাষা রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভাষাটির ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে।

রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা বা গবেষণা করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য রুশ ভাষা শেখা উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষাক্রম রুশ ভাষায় পরিচালিত হয়, সেগুলোতে অংশ নিতে ভাষাদক্ষতা প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি রুশ ভাষায় যোগাযোগ করতে পারলে দেশটির স্থানীয় পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।

জ্বালানি, প্রকৌশল, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, অনুবাদ এবং রাশিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আগ্রহীদের জন্যও ভাষাটি বিবেচনাযোগ্য। তবে চাকরি বা শিক্ষার সুযোগ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্ত, প্রার্থীর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ওপর।

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এবং রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে রুশ ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

ক্যারিয়ারের জন্য কোন ভাষাটি শিখবেন?

বিদেশি ভাষা শেখার আগে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। শুধু জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে ভাষা বেছে না নিয়ে কোন দেশে পড়তে চান, কোন খাতে কাজ করতে চান এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের পেশায় যুক্ত হতে চান, তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উৎপাদনশিল্প: মান্দারিন চীনা বা জাপানিজ।

  • ইউরোপে উচ্চশিক্ষা ও প্রকৌশল: জার্মান।

  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন খাত: ফরাসি।

  • মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান: আরবি।

  • দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা বা কাজ: কোরিয়ান।

  • ফ্যাশন, ডিজাইন ও শিল্পকলা: ইতালিয়ান।

  • স্পেন ও লাতিন আমেরিকাকেন্দ্রিক কাজ: স্প্যানিশ।

  • তুরস্কে পড়াশোনা ও ব্যবসা: তুর্কি।

  • রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা: রুশ।

ভাষা শেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, কম্পিউটার দক্ষতা, যোগাযোগের সক্ষমতা এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ভাষা জানা চাকরি নিশ্চিত করে না; বরং ভাষাদক্ষতা যখন পেশাগত যোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স