ঢাকা

জুলাই সনদ নিয়ে অসন্তোষ, বাস্তবায়ন না হওয়ার দাবি এবি পার্টির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে রাজনৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য মজিবুর রহমান মঞ্জুর

জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদের ৫ হাজার ৬৯০ শব্দের মধ্যে বর্তমান সরকার কয়টি অক্ষর বাস্তবায়ন করেছে, তার হিসাব জনগণ জানতে চায়। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে সরকারকে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে একদিন রাজনৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবি পার্টির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার বক্তব্যের এসব তথ্য জানানো হয়।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়া প্রয়োজন। সনদে যেসব প্রতিশ্রুতি ও সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের সমালোচনা করলে কিংবা কোনো কর্মসূচি পালন করলে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হবেন কি না, তা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কোন ভাষায় সমালোচনা করলে বা কী ধরনের কর্মসূচি দিলে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা অসন্তুষ্ট হবেন না, তা তাঁদের জানা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘সরকার উল্টো পথে হাঁটছে’

মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। দেশে বাক্‌স্বাধীনতা হরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে কী ধরনের কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।

বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, বিরোধী দল যদি শুধু পাঁচ বছর পর ক্ষমতায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকে এবং সরকারের বিরুদ্ধে সীমিত মাত্রায় বিরোধিতা করে, তাহলে সেটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির প্রশ্নে বিরোধী দলকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

বিচার ও সংস্কারের দাবি এবি পার্টির

সভায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জনগণ বিচার ও সংস্কার চায়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো জরুরি।

তিনি বলেন, সরকার চাইলেও কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দিতে পারে না। এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদের মতে, জুলাই সনদের গুরুত্ব এখানেই যে এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানোর পথ তৈরি হতে পারে। তাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর উদ্যোগও প্রয়োজন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাইবার সুরক্ষা নিয়ে বিতর্কের সমালোচনা

সভায় ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক মাশরুর ফাহিম বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সাইবার সুরক্ষার মতো বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি না করে সংস্কার বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

তাঁর বক্তব্যে সংস্কার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য বা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কে আটকে না থেকে বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে সরোয়ার তুষার বলেন, এ ধরনের বিতর্ক অতীতের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে এমন উদ্যোগ প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা না বাড়িয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে।

সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা

‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার, বাক্‌স্বাধীনতা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

বক্তাদের বক্তব্যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব অগ্রগতির মধ্যে ব্যবধান রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী, এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবি পার্টির আহ্বায়ক আবদুল হালিম খোকনসহ অন্যরা।

সভায় অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যে জুলাই সনদের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, সরকারের জবাবদিহি এবং সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংস্কার বাস্তবায়ন ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তবে জুলাই সনদের কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যক্রমের বিস্তারিত অগ্রগতি এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সনদ বাস্তবায়নের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রয়োজন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স