ঢাকা

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক জয়েন্ট লিস্ট–প্রধানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আগ্রহী দলগুলোকে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন। তাঁর বক্তব্য, ইসরায়েলে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হলে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে প্রকৃত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকারের শরিক ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ তৈরিতে তাঁর দল প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েলের নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাসের পর জাবারিনের এই আহ্বান সামনে এল। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এতে পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে আংশিক ফলাফল থেকে এখনো নতুন সরকারের চূড়ান্ত গঠন বা কোন দল শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাবে, তা নিশ্চিত নয়।

আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। কিন্তু নির্বাচনের আংশিক ফলে কোনো প্রধান জোটই সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যালট বাক্সের গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৭ বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। জয়েন্ট লিস্ট ১৩টি এবং রা’আম ছয়টি আসন পেতে পারে বলে তখন ধারণা করা হচ্ছিল।

The Times of Israel+1

এই হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের সঙ্গে যুক্ত হলে সরকার গঠনের সমীকরণ বদলে যেতে পারে। তবে আসনসংখ্যা একত্র করলেই সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত হয় না। এর জন্য দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা, পারস্পরিক সমর্থন এবং সরকার পরিচালনার বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন।

আরব দলগুলোর এই সম্ভাব্য প্রভাব ইসরায়েলের রাজনীতিতে তাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এত দিন আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের প্রশ্নে ইসরায়েলের বিভিন্ন জায়নবাদী দলের মধ্যে অনীহা ও মতপার্থক্য ছিল। এবার তাদের আসনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেই অবস্থান কতটা বদলাবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আইজেনকটের জোটের সামনে সমঝোতার চ্যালেঞ্জ

গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোটে নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াহাদ, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটসের মতো দল রয়েছে। আংশিক ফলাফলে তাদের সম্মিলিত আসনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে এই সমর্থন আদায় সহজ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিরোধী শিবিরের সব দলের অবস্থান এক নয়। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটের কয়েকটি দল আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

The Times of Israel+1

এই পরিস্থিতিতে আইজেনকটের জোটকে একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন খুঁজতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের শরিকদের অবস্থানের সঙ্গেও সমন্বয় করতে হচ্ছে। ফলে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত কোন রূপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নেসেটের স্পিকারকে সরানোর উদ্যোগের খবর

নতুন সরকার গঠনের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছালেও পার্লামেন্টের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আইজেনকট আরব দলগুলোর আসনসহ সমর্থন একত্র করে নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে পদ থেকে সরানোর উদ্যোগ নিতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

আমির ওহানা নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির সদস্য। ফলে তাঁকে সরানোর সম্ভাব্য উদ্যোগকে পার্লামেন্টে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটি এখনো সম্ভাব্য উদ্যোগের খবর; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

ইহুদি–আরব অংশীদারত্বের প্রশ্ন সামনে

জাবারিনের বক্তব্যে শুধু নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বানই নয়, ইসরায়েলের রাজনৈতিক কাঠামোয় আরব নাগরিকদের ভূমিকা নিয়েও একটি বৃহত্তর দাবি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, বর্ণবাদ, বঞ্চনা ও আধিপত্যের ধারাবাহিকতার পরিবর্তে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে প্রকৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেছেন, তাঁর দল নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে বিশ্বাসের মূল্যবোধগুলো এগিয়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও স্মোত্রিচের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ তৈরিতে তারা প্রস্তুত।

জাবারিনের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নির্বাচনের আংশিক ফলে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আভাস মিলেছে। ফলে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব শুধু পার্লামেন্টে আসনসংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সরকার গঠন ও নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চূড়ান্ত ফল ও জোট আলোচনা এখন প্রধান বিষয়

নির্বাচনের আংশিক ফলাফল আরব দলগুলোর সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত দিলেও সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একদিকে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করবে, অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটকে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে হবে। এ অবস্থায় জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে বিরোধী জোটের শরিকদের মতপার্থক্য এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমঝোতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন দল বা জোট সরকার গঠন করবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার ওপর।

এ মুহূর্তে জাবারিনের বার্তা স্পষ্ট: নেতানিয়াহু সরকারের বিকল্প গড়তে চাইলে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। কিন্তু সেই আহ্বান বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক সমর্থন পাবে, তা নির্ধারিত হবে আগামী দিনের জোট আলোচনা ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স