ঢাকা

আবার ক্লাসে ফিরলেন ছাত্রদল নেতা মুরসালিন মুন্না

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
আল মুরসালিন মুন্না আল মুরসালিন মুন্না

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ছাত্রলীগের নির্যাতন,মামলা হামলার শিকার হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আল মুরসালিন মুন্না ।


জানা যায়, মুরসালিন মুন্না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বেরোবি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক সদস্য ও প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।


মুরসালিন মুন্নার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ আর আওয়ামী প্রশাসনের নানা নির্যাতনের কারণে তিনি মাস্টার্স শেষ করতে পারেননি। অনার্সের ফলাফল প্রকাশের পরও সার্টিফিকেট আটকে দেন তৎকালীন প্রসাশন। এসবের কারনে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর শিক্ষাজীবন স্থবির হয়ে যায়। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনুমতি পেয়েছেন তিনি।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৪৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় মুরসালিন মুন্নার ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার বিষয়টির প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এরপর বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় প্রধান’সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুপারিশে বিষয়টির যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক পুনঃভর্তি করার জন্য সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় মুন্নার ভর্তির সুপারিশ গৃহীত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৪ মে  একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে গণিত বিভাগের ১২ তম ব্যাচের সাথে মাস্টার্সে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করেন। এখন তিনি উক্ত ব্যাচের সাথে ক্লাস পরিক্ষায় অংশগ্রহন শুরু করে।


মুরসালিন মুন্না বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা, মামলা(৪টি) এবং নানারকম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক থাকার কারনে ছাত্রলীগের, আওয়ামী পন্থী কিছু শিক্ষক এবং প্রশাসনের রোষানলে পড়ি, যার কারনে  ২০১৮  সালের নির্বাচনে  বিরোধী রাজনীতি মতাদর্শে ধরপাকরের কারনে আমি ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারিনি।  নভেম্বর  ডিসেম্বরে আমার মাস্টার্স ১ম সেমিস্টার ফাইনাল পরিক্ষা ছিল।কিন্তু আমি পরিক্ষার আগে কোনো ক্লাস করতে পারি নি। ফলে এই রকম পরিস্থিতির কারনে আমি উক্ত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারিনি। ২০১৮ পরবর্তী আওয়ামী শাসন আমলে আমি নিজেকে আর নিরাপদ মনে করি নি। তাই নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকির কারণে আমি পরবর্তী সেশনে মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারিনি।


এ বিষয়ে গনিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড.কমলেশ চন্দ্র রায় বলেন, মুন্না ১২ তম ব্যাচে ভর্তি হয়েছে। তাকে যাথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক পুনঃভর্তি করার জন্য নীতিগতভাবে সুপারিশ গৃহীত হয়। ফলে আমরা তাকে ভর্তি করে নিয়েছি।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড.মো: হারুন অর রশীদ বলেন, মোরসালিন মুন্না এর বিষয়ে গতবছর এর অক্টোবর মাসের একাডেমিক কাউন্সিলে তোলা হয় এবং সেখানে পাস হয়ে সিন্ডিকেটে তোলা হয়। তারপর সেখানে অনুমোদন পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ভর্তির সুযোগ পান। ৭বছর পর মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারবে কি না এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এইরকম  নীতিমালা না থাকায় বিষয় টি একাডেমিক কাউন্সিলে তোলা হয়। এবং সেখানে পাস হয়।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স