ঢাকা

মুসলিম দোকানিকে বাঁচাতে গিয়ে হিন্দু তরুণ উত্তরাখন্ডে আক্রান্ত হয়ে রোষানলে

-

ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের কোটদ্বার এলাকায় এক বৃদ্ধ মুসলিম দোকানিকে হেনস্তা করতে দেখেন দীপক কুমার নামের এক ব্যক্তি। তিনি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের উচ্ছৃঙ্খল জনতার (মব) সামনে দাঁড়িয়ে দোকানিকে রক্ষা করেন। ঘটনার পর কোটদ্বারে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দেয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রধান সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

দীপক কুমারের সাহসিকতা

৩৭ বছর বয়সী দীপক কুমারের বিরুদ্ধে হেনস্তাকারীদের দৃষ্টি যাওয়ার পর তার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। পাউরি গাড়োয়াল পুলিশ জানিয়েছে, কোটদ্বার পৌর এলাকায় “শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা জোরদার করার লক্ষ্যে” তারা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। প্রয়োজনে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যানবাহন ও কর্মকাণ্ডের ওপর তল্লাশি অভিযানও করা হচ্ছে।

গত ২৬ জানুয়ারি দীপক কুমার ৭০ বছর বয়সী এক মুসলিম দোকানিকে হিন্দুত্ববাদীদের চাপ থেকে রক্ষা করেন। ওই বৃদ্ধ পার্কিনসন রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং উগ্রবাদীরা দোকানের নাম থেকে ‘বাবা’ শব্দটি মুছে ফেলতে বলছিল। সেই মুহূর্তে দীপক কুমার মবের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, “আমার নাম মোহাম্মদ দীপক।”

দীপক কুমার বলেন, “আমি শুধু ঈশ্বরের কাছে দায়বদ্ধ। ধর্মের কারণে আক্রান্ত হওয়া একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক কাজ ছিল। আমি এতে কোনো অনুশোচনা বা ভয় পাইনি।”

পুলিশের পদক্ষেপ

পুলিশ শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে নজরদারি বাড়িয়েছে। প্রশাসন নিশ্চিত করছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এবং সম্প্রীতি বজায় থাকে। দীপক কুমারের জন্মদিনের দিনও পুলিশ তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে।

মামলা ও আইনি পরিস্থিতি

ঘটনার পর তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।

  • প্রথম মামলার বাদী হেনস্তার শিকার দোকানি উকিল আহমেদ।

  • দ্বিতীয় মামলাটি দীপক কুমার ও তাঁর বন্ধু বিজয় রাওয়াতের বিরুদ্ধে।

  • তৃতীয় মামলা পুলিশ দায়ের করেছে বজরং দলের অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্ক

ঘটনার পর রাজ্যে বিজেপি ও কংগ্রেস একে অপরকে আক্রমণ করেছে। রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি মহেন্দ্র ভাট এটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, বিষয়টি রাজ্যের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার পরিকল্পিত চেষ্টার অংশ হতে পারে।

অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, কেন দীপক কুমার ও বিজয় রাওয়াতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অথচ হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাজ্য কংগ্রেসের সহসভাপতি সূর্যকান্ত ধাসমানা বলেন, “এটি পরিষ্কার, বিজেপি সরকারের প্রশ্রয়েই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটানো হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, শাসকদল ক্ষমতা ধরে রাখতে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছে এবং সমাজবিরোধীদের ছাড় দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দীপক কুমারের সাহসিকতা প্রশংসিত হলেও তিনি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের নজরেও চলে এসেছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।




কমেন্ট বক্স