ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দিয়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ চালায়। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর দেওয়া বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুরুতে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়েন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এ সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি।
জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে সরকার জানায়, পুলিশ সম্পূর্ণ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়, অভিযানে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিবসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সরকার নাকচ করেছে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকার মনে করে, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরও এখন বাংলাদেশের দিকে, যেখানে ইতিমধ্যে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকেরা উপস্থিত হয়েছেন।
বিবৃতির শেষাংশে সরকার সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনকে জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব।