জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আনোয়ারা বেগমকে গত বুধবার (২৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' চলাকালে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার বাদী হিসেবে আছেন জবি শাখা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের 'রাজাকার' আখ্যা দিয়ে তাদের 'গুলির মাধ্যমে হত্যা'র হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া, পিএসসির সদস্য থাকা অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কাউকে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে দেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক আনোয়ারা বেগমের ক্যাম্পাসে আগমন বা তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার বিষয়ে অবগত ছিল না। তিনি আরও বলেন, পুলিশ তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' চলাকালে সুজন মোল্লা গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পরপরই অধ্যাপক, কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের ৯৪ জনসহ মোট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকসহ ১৯৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী ও ড. আনোয়ারা বেগম, জবি নীল দলের অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল, সহকারী প্রক্টর নিউটন হাওলাদার, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস, ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ফারুক আহমেদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু সালেহ সিকান্দার উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া, আসামি পাঁচ কর্মকর্তা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকতা সমিতির সভাপতি কাজী মনির, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আলতাফ হোসেন ও ইমরান হোসেন ইমন, ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার পদে নিয়োজিত কর্মকর্তা টুটুল আহমেদ, জবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও স্টোরকিপার সুমন হাসান সোহান।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা মহলে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।