ঢাকা

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে নতুন উত্তেজনা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ঘটনার পরপরই দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এ তথ্য জানিয়েছে আল–জাজিরা।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়, সাইরেন বেজে ওঠে

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (IDF) দাবি অনুযায়ী, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পরপরই উত্তর ইসরায়েলের হাইফা এবং আশপাশের এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়।

সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রথম ধাপের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে। তবে পরবর্তীতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করে।

রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরের কাছাকাছি অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিমানঘাঁটিটি দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে চালানো সামরিক অভিযানের ‘কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন সংঘাতের আশঙ্কা

এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন অঞ্চলটিতে কার্যকর একটি যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বজায় রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছিল।

এর আগে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলার পর ইরানি কর্মকর্তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, সেই উত্তেজনার ধারাবাহিকতাই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ে রূপ নিয়েছে।

ইসরায়েলে উচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৈরুত হামলার পর থেকেই তারা সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ‘উচ্চ সতর্ক অবস্থায়’ ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

সেনাবাহিনীর দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ে সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য

হামলার খবর প্রকাশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বে টুইটার) একটি মন্তব্য করেন।

তিনি লেখেন, “আজ রাতে তেহরানকে অবশ্যই পুড়তে হবে!”

এই ধরনের বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন, যা কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে পারে।

আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তারের শঙ্কা

ইরান–ইসরায়েল সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হুমকির কারণে পরিস্থিতি এখন নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে লেবানন, সিরিয়া ও সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।



চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয় থাকা, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি এবং রাজনৈতিক উসকানিমূলক বক্তব্য—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স