জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শনিবার ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক অম্বিকা ময়দানে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনা করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে টার্গেট করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর এবং এই নির্বাচনের পর থেকে সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও গ্রিন সিগন্যালে ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। সেই উদ্দেশ্যে নানা সংবাদ, তথ্য ও অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে।”
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসেন–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ফ্যাসিস্টদের কোনো ক্ষমা নেই। ফ্যাসিস্টদের বিচার এবং তাদের দোসরদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই, ইনশা আল্লাহ। যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াব, এবং বাংলাদেশের জনগণও দাঁড়াবে।”
তিনি মুক্তিযুদ্ধকে দেশের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ উল্লেখ করে বলেন, “কিন্তু যারা মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে, তারা ১৬ বছর ধরে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম, ৭ মার্চের নাম এবং মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহার করে লুণ্ঠন, গণহত্যা, গুম ও খুনের মতো অপকর্মকে বৈধতার আড়ালে আনার চেষ্টা করেছে।” নাহিদ ইসলাম এসব অপচেষ্টা রুখতে হুঁশিয়ারি দেন এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে সবাইকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মেঘ দেখলেই বোঝা যায় বৃষ্টি হবে কি না। দিনের শুরুতেই আকাশ দেখলে বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে। এই সরকারের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশকে কোন দিকে নিয়ে যেতে চায়।” নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদেশ অনুযায়ী দুটি শপথ নিয়েছি। কিন্তু সরকারি দল এই নির্বাচনের পরপরই গণভোটের বৈধতা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে বেইমানি করেছে। তারা আদালতের ওপর চাপ প্রয়োগ করে গণভোটের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।”
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিগত আমলে শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ—সবকিছুকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “এই একই প্রবণতা আমরা এই সরকারের মাত্র এক মাসের শুরু থেকেই দেখতে পাচ্ছি। আমরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকতে চাই, কিন্তু সরকারেরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।”
তিনি জানান, “আগামী ১২ তারিখ অধিবেশনের শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নিতে হবে এবং ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতি অপসারণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথা আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে অংশ নেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইলিয়াস মোল্লা, আবদুত তাওয়াব, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বদরউদ্দিন, ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী শাহ আকরাম আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফরিদপুর সভাপতি আমজাদ হুসাইন আশ্রাফী, এনসিপির ফরিদপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নিজামউদ্দিন ও জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম।