ঢাকা

ইউল্যাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘গ্রেট জার্নি, শেয়ার্ড ফিউচার’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। একই অনুষ্ঠানে চীনের ঐতিহাসিক লংমার্চ বিজয়ের ৯০তম বার্ষিকীও স্মরণ করা হয়।

গত বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) ইউল্যাব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করে ইউল্যাব, বাংলাদেশে চীনের দূতাবাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। এতে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ফটো ও ভিডিও প্রদর্শনী, বই প্রদর্শনী এবং চীনের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বিষয়ক নানা আয়োজন ছিল। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা চীনের ইতিহাস, রাষ্ট্র পরিচালনার ধারা, উন্নয়নযাত্রা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ পান।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের ঐতিহ্যবাহী ক্যালিগ্রাফি এবং পেপার কাটিং শিল্পের প্রদর্শনী ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি চীনের ঐতিহ্যবাহী তারবাদ্য ‘গুঝেং’-এ বিশেষ সঙ্গীত পরিবেশন অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তিনি বলেন, “এই উদ্‌যাপন শিক্ষা ও সংস্কৃতির পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় করবে।”

অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনে ‘দ্য স্টোরি অব দ্য কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না’ শীর্ষক বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের সংস্কৃতি কাউন্সিলর লি শাওপেং। বক্তব্যে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ, লংমার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ধাপ এবং দেশটির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

তিনি বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ড. ইয়াং হুই, বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হুয়াং মউকং, চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক শিল্পী।

ইউল্যাবের পক্ষে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সহ-উপাচার্য অধ্যাপক জুড উইলিয়াম হেনিলো, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বিশেষ উপদেষ্টা ও ট্রেজারার অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্য, রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. ফয়জুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের যৌথ সাংস্কৃতিক আয়োজন শুধু দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেই নয়, বরং শিক্ষা, গবেষণা, ভাষা শিক্ষা এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে এবং বিভিন্ন দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জনে সহায়ক হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স