ঢাকা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন যুদ্ধ, কার্যকারিতা তুলনা: শাহেদ বনাম লুকাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোটের সাম্প্রতিক সংঘাত আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন ধারা প্রকাশ করেছে—সস্তা, দ্রুত উৎপাদনযোগ্য ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রভাবশালী অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বিশেষ করে কোটি কোটি ডলারের যুদ্ধবিমানের চেয়ে কম খরচে তৈরি ড্রোন অনেক বেশি কার্যকরী হয়ে উঠছে।

এই যুদ্ধে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা দুটি ড্রোন হলো ইরানের শাহেদ–১৩৬ এবং যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস (Low Cost Unmanned Combat Attack System)। ফোর্বস সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুকাস মূলত শাহেদ–১৩৬-এর নকশা অনুসরণ করে তৈরি। ফলে ইরানের উদ্ভাবিত একটি অস্ত্র এখন তাদেরই বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শাহেদ–১৩৬: সস্তা কিন্তু বিপুল সংখ্যা

শাহেদ–১৩৬-এর মূল শক্তি হলো কম খরচে অনেকগুলো তৈরি করা এবং একসাথে উৎক্ষেপণ করা যায়। প্রতি ড্রোন তৈরি করতে খরচ হয় মাত্র ১০–৫০ হাজার মার্কিন ডলার। ত্রিভুজাকৃতির নকশা এবং ছোট আকারের কারণে সংযোজন ও পরিচালনা সহজ।

প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে গিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম এই ড্রোন কম উচ্চতায় উড়ে রাডার এড়িয়ে চলতে পারে। তবে এর গতি ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার, ইঞ্জিনের শব্দ সহজে শনাক্ত হয়, ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত শাহেদ–১৩৬ উৎক্ষেপণ করেছে। প্রতিটি ড্রোনের কম খরচ ও বিপুল সংখ্যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চরম চাপ তৈরি করেছে।

লুকাস: যুক্তরাষ্ট্রের সস্তা প্রতিরক্ষা ও সমন্বয়

যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোনের তৈরি খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। এর নকশা এমন যে একাধিক লুকাস একযোগে আক্রমণ করতে পারে এবং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে। ফলে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন লুকাস ব্যবহার করে উপসাগরে থাকা রণতরির মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্যবদ্ধ আক্রমণ চালাচ্ছে। সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে তারা বড় সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারছে—যদি কোনো ড্রোন ধ্বংস হয়, খরচ কম হওয়ায় ক্ষতি সীমিত থাকে।

যুদ্ধের নতুন রূপ: সস্তা, বিপুল সংখ্যায়, আত্মঘাতী

আজকের দিনে যুদ্ধের হিসাব বদলাচ্ছে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের বদলে কম খরচের ড্রোন। ইরানের শাহেদ–১৩৬ এবং যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস—উভয়ই এই দৃষ্টিকোণ থেকে কার্যকর। সংখ্যা, সস্তা উৎপাদন ও সমন্বয় ক্ষমতা এখন প্রধান হাতিয়ার।

সর্বশেষ, যুদ্ধের আধুনিক মানচিত্রে সস্তা, বিপুল সংখ্যায় ড্রোন ব্যবহার হয়তো এক ধরনের নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এটি শুধু অস্ত্র প্রযুক্তির নয়, বরং কৌশলগত পরিবর্তনেরও প্রতীক—যুদ্ধ এখন বড়, ব্যয়বহুল যন্ত্র নয়, বরং দ্রুত, নমনীয় এবং সস্তা প্রযুক্তির লড়াই।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স