চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর পর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সব কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার রাতে বিএসবিআরএর সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান ইয়ার্ডটি পরিদর্শনের পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনি। নমুনা সংগ্রহের সময় নতুন কোনো দুর্ঘটনা এড়াতেই আপাতত ইয়ার্ডের সব কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধের সময় তদন্ত কমিটি প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করবে।
শুক্রবার সকালে ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের প্রায় ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে কাজ করার সময় কয়েকজন শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে একে একে ৯ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জাহাজের ব্যালাস্ট এলাকায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর আগেও ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শনে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের ঘাটতি, ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রতিবেদন না থাকা এবং অতিরিক্ত সময় কাজ করানোর পরও ওভারটাইমের অর্থ না দেওয়ার মতো বিষয় ধরা পড়ে।
এসব অনিয়ম সংশোধনের জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।