ঢাকা

ইরানের গুচ্ছ বোমা আঘাত ইসরায়েলের উপর, তীব্র ক্ষতি আশঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ইরানের গুচ্ছ বোমাবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে আরও একজন আহতের মৃত্যু হয়েছে, যা এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দুইয়ে পৌঁছে দিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালেই আহত ব্যক্তি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।

হামলার পরিসর ও প্রভাব

চলমান যুদ্ধে ইরান বহু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডে থাকা গুচ্ছ বোমা নির্বিচারভাবে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড থেকে বের হওয়া ছোট বোমাগুলি (সাবমিউনিশন) মধ্য ইসরায়েলের অন্তত ছয়টি স্থানে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইয়েহুদ, অর ইয়েহুদা, হোলোন এবং বাত ইয়াম।

নিহত দুই ব্যক্তি রুস্তম গুলমোভ এবং আমিদ মুর্তুজোভ, উভয়ের বয়স ৪০-এর কোঠায়, এবং তারা পেতাহ তিকভা শহরের বাসিন্দা। হামলার সময় তারা ইয়েহুদ শহরের একটি নির্মাণস্থলে কাজ করছিলেন। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ছড়িয়ে পড়া গুচ্ছ বোমার আঘাত তাঁদের মৃত্যু ডেকে আনে।

উদ্ধারকাজ ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডের ভূমিকা

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অনেকে কোনো বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল শাই ক্লাপার বলেছেন, “নির্মাণস্থলে কয়েক ডজন শ্রমিক বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকে নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। নির্দেশনা মেনে চলার ফলে তাঁদের জীবন বেঁচে গেছে।”

হামলার সময় অর ইয়েহুদা শহরে আরও একজন গুরুতর আহত হন, যিনি কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না। স্থানীয় ক্রেনচালক জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় শ্রমিকরা বিপদে পড়েন, এবং নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ায় অনেকের জীবন রক্ষা পায়।

গুচ্ছ বোমা (ক্লাস্টার মিসাইল) কী?

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, গুচ্ছ বোমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড নিচে নামার সময় খুলে যায়। এতে ২৪ থেকে ৮০টি ছোট বোমা ছড়িয়ে যায়, যার প্রতিটিতে প্রায় ২.৫ কেজি বিস্ফোরক থাকে। এসব বোমার নিজস্ব কোনো চালিকা শক্তি নেই, তারা শুধুই নিচে আছড়ে পড়ে এবং কোনো বস্তুতে আঘাত লাগলে বিস্ফোরিত হয়।

আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্যান্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় গুচ্ছ বোমা বৃহৎ এলাকায় হুমকি সৃষ্টি করে, যদিও প্রতিটি বিস্ফোরণ কম মাত্রার। অন্যদিকে সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডে প্রায় ৫০০ কেজি বিস্ফোরক থাকে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম।

পূর্ববর্তী হামলা ও সতর্কীকরণ

চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি, ২০২৫ সালের জুনেও ইরান কয়েকটি গুচ্ছ বোমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলকে লক্ষ্য করেছে। গত বছর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলে একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল।

ইসরায়েলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৩ মার্চ গুচ্ছ বোমা ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ১২ জন আহত হন। কিছু বোমা বিস্ফোরিত না হলেও এগুলোর সংস্পর্শে এলে মারাত্মক বিপদ তৈরি হতে পারে।

শাই ক্লাপার সতর্ক করেছেন, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলার ফলে জীবন রক্ষা হয়। “এই অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষতি নেই, কারণ পরিবারটি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছিল,” তিনি বলেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স