আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। নির্বাচিত সংসদে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও উত্তাপের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন–এর ভাষণ প্রসঙ্গে আপত্তি জানিয়েছে। জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তারা আলোচনা শেষে স্পষ্ট ভূমিকা দেখাবেন।
সংবিধান সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের পরে নতুন সংসদ সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন।
জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান–সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে—
-
প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা সীমিত করা
-
কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি
-
নিম্নকক্ষের ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন
-
সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা
-
ন্যায়পাল, সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিধান
বিএনপি এই প্রস্তাবগুলোতে ভিন্নমত দেখালেও সংবিধান সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। জামায়াত ও এনসিপি পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়।
প্রথম অধিবেশনের ব্যতিক্রমী কার্যক্রম
সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তবে এবার তা ব্যতিক্রম।
-
দ্বাদশ সংসদের বিদায়ী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন
-
বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে থাকায় প্রথম অধিবেশন স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে শুরু হবে
-
প্রথমে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত হবে
-
সংসদ নেতা একটি জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন, অন্য একজন সদস্য তা সমর্থন করলে ওই সদস্য অধিবেশন পরিচালনা করবেন
-
এরপর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে
-
শোক প্রস্তাব ও ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে
সংসদে রাজনৈতিক উত্তাপের সম্ভাবনা
বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে সংবিধান সংস্কার, ১৩৩টি অধ্যাদেশ, আইন সংস্কার এবং ডেপুটি স্পিকারের পদ নিয়ে উত্তাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে জনগণ ৬৯% ‘হ্যাঁ’ দিয়েছিল, যা অগ্রাহ্য করা যাবে না। বিএনপি ও বিরোধী দল প্রস্তাব বাস্তবায়নে নিজেদের ভূমিকা পালন করবেন।
সংসদে দলগত কাঠামো
-
মোট আসন: ৩৫০ (৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন হয়নি)
-
সাধারণ আসন: ৩০০ (২৯৯টি ভোট হয়েছে, দুটি ফলাফল স্থগিত)
-
সরকার গঠন করেছে বিএনপি: ২০৯ আসন (দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা)
-
বিরোধী দলের আসন: জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য (৬৮ আসন), এনসিপি (৬ আসন)
-
অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১, গণসংহতি আন্দোলন ১, গণ অধিকার পরিষদ ১, খেলাফত মজলিস ১, স্বতন্ত্র ৭
নতুন ইতিহাসের সূচনা
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আগামীকালের সংসদে দেশের মানুষ যে নতুন গণতন্ত্রের আশা করে, তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।”
জাতীয় সংসদে কার্যকর বিতর্ক, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা, সংবিধান বাস্তবায়ন, আইন সংস্কার এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।