ঢাকা

আসিফ মাহমুদ বললেন, রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্যের সুযোগ না দিতে এমপিদের অনুরোধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর পরপরই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সেখানে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁরা যেন রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেন এবং তাঁর অভিশংসনের দাবি তোলেন।

বেলা ১১টার কিছু পরে অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এ মানববন্ধনে আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশ এখন ‘ফ্যাসিবাদের পক্ষে ও বিপক্ষে’—এই দুই ভাগে বিভক্ত। তাঁর ভাষায়, সংসদে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি হিসেবে রয়েছেন, তাঁদের উচিত রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করা এবং অপসারণের দাবি উত্থাপন করা।


‘জনগণের পক্ষ থেকে দাঁড়িয়েছি’

আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁরা দলীয় পরিচয়ে নয়, দেশের মানুষের পক্ষ থেকে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকার ঘোষণাও দেন তিনি।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় ফিরে জনগণের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইলে ‘ফ্যাসিবাদের সর্বশেষ প্রতীক’ হিসেবে যাঁকে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে গণভোটে যে জনরায় এসেছে, তার ভিত্তিতে অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।


‘উৎসবের দিনেও আন্দোলনে নামতে হয়েছে’

আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে উঠে আসে হতাশার সুর। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ও গণতান্ত্রিক সংসদের প্রথম অধিবেশন জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপনের দিন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা এমন যে, তাঁদের সংসদের সামনে এসে অবস্থান নিতে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে ‘চিহ্নিত ফ্যাসিবাদীদের’ জামিন দেওয়া হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


তিন দফা দাবি

মানববন্ধনে তিনটি দাবি তুলে ধরেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। দাবিগুলো হলো—

  1. অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ

  2. রাষ্ট্রপতির অভিশংসন

  3. জুলাই গণহত্যার বিচার

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরা শারমিন, জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ফকিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মী।

এছাড়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহত নারী নাইমা সুলতানার মা আইনুন নাহারসহ কয়েকজন শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্য অংশ নেন।

আইনুন নাহার বলেন, তাঁদের সন্তানেরা নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় জীবন দিয়েছেন। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা চলছে। তিনি বলেন, তাঁরা ‘ফ্যাসিবাদের রাষ্ট্রপতিকে’ সংসদে দেখতে চান না।


প্ল্যাকার্ডে স্লোগান

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল—

  • ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে গণভোট অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে’

  • ‘জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে’

  • ‘রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে’

  • ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন চাই’

  • ‘জুলাই নিয়ে টালবাহানা চলবে না’

সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনেই সংসদ ভবনের বাইরে এমন কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদ, রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও সংস্কার বাস্তবায়ন ইস্যুতে সংসদের ভেতরে-বাইরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার আভাস মিলছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স