ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নয়টি সংসদীয় আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে করা পৃথক নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন High Court Division of the Supreme Court of Bangladesh। আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন Mia Golam Parwar–সহ মোট নয়জন প্রার্থী।
গত বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত আদেশ দেন বিচারপতি Md Zakir Hossain–এর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ। সংশ্লিষ্ট সব আবেদনই তাঁর বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
বিএনপির চার প্রার্থীর আবেদন
আবেদনকারী নয়জনের মধ্যে চারজন Bangladesh Nationalist Party–এর প্রার্থী। তাঁরা হলেন—
-
ঢাকা–১১ আসনে MA Kaiyum
-
চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে Md Sharifuzzaman
-
মাদারীপুর–১ আসনে Nadira Akter
-
নীলফামারী–২ আসনে Shahrin Islam
ঢাকা–১১ আসনে এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। এই আসনে জয়ী হয়েছেন Nahid Islam, যিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট।
চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে বিএনপির শরীফুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৩ ভোট। এই আসনে জয়ী হয়েছেন Masud Parvez, যিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৪১ ভোট।
মাদারীপুর–১ আসনে বিএনপির নাদিরা আক্তার পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট। এখানে জয়ী হয়েছেন Saeed Uddin Ahmad Hanzala, যিনি পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট।
নীলফামারী–২ আসনে বিএনপির শাহরিন ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট। এই আসনে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের Al Faruk Abdul Latif।
জামায়াতের পাঁচ প্রার্থীর আবেদন
অপর পাঁচজন আবেদনকারী Bangladesh Jamaat-e-Islami–এর প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল Mia Golam Parwar।
এই পাঁচ প্রার্থী হলেন—
-
খুলনা–৫ আসনে মিয়া গোলাম পরওয়ার
-
বরগুনা–২ আসনে Sultan Ahmed
-
পিরোজপুর–২ আসনে Shamim Saeedi
-
কক্সবাজার–৪ আসনে Nur Ahmed Anwari
-
ঢাকা–১০ আসনে Md Jasim Uddin Sarkar
খুলনা–৫ আসনে জামায়াতের মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। এখানে বিএনপির Mohammad Ali Asgar ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
বরগুনা–২ আসনে জামায়াতের সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১৫ ভোট। এই আসনে বিএনপির Nurul Islam ৮৯ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
পিরোজপুর–২ আসনে জামায়াতের শামীম সাঈদী পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮৯৭ ভোট। এখানে বিএনপির Ahammad Sohel Monjur ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
ঢাকা–১০ আসনে জামায়াতের জসীম উদ্দীন সরকার পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট। এই আসনে বিএনপির Sheikh Robiul Alam ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
কক্সবাজার–৪ আসনে জামায়াতের নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৯৮০ ভোট। এখানে বিএনপির Shahjahan Chowdhury ১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া
এই নয়টি আসনের মধ্যে আটটিতে ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আর চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী Ruhul Quddus, আইনজীবী Palash Chandra Roy ও Aktanur Nahar।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী Mohammad Shishir Monir এবং আইনজীবী M Belayet Hossain।
নির্বাচনী আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে
প্রধান বিচারপতি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন–সংক্রান্ত আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তিনি হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন।
এই বিধান অনুযায়ী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩৬ জন প্রার্থীর পৃথক ৩৬টি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের ফল নিয়ে অসন্তোষ থাকায় আদালতে এমন আবেদন বাড়ছে এবং এসব আবেদনের নিষ্পত্তি নির্বাচনী ফলাফলকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।