ঢাকা

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের আলটিমেটাম ‘জুলাই ঐক্যের’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

সংবিধান লঙ্ঘন ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু–কে অভিশংসনের মাধ্যমে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ নামের একটি সংগঠন। একই সঙ্গে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার বিকেলে মধুর ক্যানটিন–এর সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী।

সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অপসারণের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে অপসারণ করা সম্ভব। সেই বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অপসারণের উদ্যোগ নিতে সংসদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে ফাহিম ফারুকী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দিয়ে তিনি ‘জনতার সংসদকে অপবিত্র করেছেন’। তাঁর দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়েছেন।

বিএনপি ও ‘জুলাইয়ের চেতনা’ প্রসঙ্গ

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভূমিকাও সমালোচনা করা হয়। ফাহিম ফারুকী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুটি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলেও বিএনপি জুলাইয়ের শপথ গ্রহণে অংশ নেয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ ছাত্র–জনতা আশা করেছিলেন যে নতুন স্পিকারের অধীনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি শপথ নেবে। কিন্তু তা না করে উল্টো রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সংসদে ভাষণ দেওয়ানো হয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–র আদর্শ ও আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করা হয়েছে।

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরা হয়। ফাহিম ফারুকী বলেন, তাঁরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো ধরনের বিলম্ব বা টালবাহানা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, যারা এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, তাঁদের দ্রুত চলতি সংসদ অধিবেশনেই শপথ গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ‘ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলুপ্তি’ ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, এমন দাবি সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স