ঢাকা

হুমায়ুন-তাহসিনার সিলেট–২ দ্বন্দ্ব: রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনা-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।

গত শুক্রবার বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সদ্যপ্রয়াত মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী-এর মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আসে।

দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট

উক্ত কর্মসূচিতে হুমায়ুন কবির প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন। ব্যানারে প্রধান বক্তা হিসেবে তাহসিনা রুশদীর নাম থাকলেও তিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় বিএনপির দুজন নেতা জানিয়েছেন, তাহসিনার অনুপস্থিতির কারণে উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান ‘মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব’ সামনে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষও ঘটেছিল। জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উভয় পক্ষকে বৈঠকে একত্রিত করে মনোমালিন্য দূর করার পাশাপাশি ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণার নির্দেশ দেন।

দুই পক্ষের অবস্থান

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাহসিনা রুশদীর ঘনিষ্ঠজন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সুহেল আহমদের পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে গিয়েছেন এবং ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন। জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলমান থাকায় গতকালের আয়োজনে উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি বলছেন, অনুষ্ঠানটি একেবারেই বলয়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির সাতজন নেতা-কর্মী জানিয়েছেন, সিলেট-২ আসনে বিএনপি বর্তমানে ‘উপদেষ্টা গ্রুপ’ এবং ‘এমপি গ্রুপ’ নামে দুই বলয়ে বিভক্ত। তুলনামূলকভাবে ‘এমপি গ্রুপ’ শক্তিশালী হলেও ‘উপদেষ্টা গ্রুপ’ ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ২০১২ সালে ‘গুম’ হওয়ার পর তাহসিনা রুশদী ধীরে ধীরে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেন। একদিকে তাহসিনা রুশদীর একক প্রভাব, অন্যদিকে হুমায়ুন কবিরের দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে।

হুমায়ুন কবিরের মনোনয়ন চাওয়ার পর উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ও পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ দেখা দেয়। যদিও নির্বাচনের আগে জেলা বিএনপির সমন্বয়কের উদ্যোগে বৈঠক করে দলের একতা নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে তাহসিনা রুশদী বিএনপির মনোনয়ন পান এবং নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

স্থানীয় নেতা ও দলের মন্তব্য

জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, “বিএনপিতে কোনো বিভেদ নেই। হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং তাহসিনা রুশদী স্থানীয় সংসদ সদস্য। উভয়েই দলের প্রয়োজনে কাজ করছেন। কোনো কোন্দল বা বিভেদ নেই।”

উক্ত ইফতার মাহফিলে হুমায়ুন কবির বলেন, “সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ বর্তমানে রাজনীতিতে অনুপস্থিত থাকলেও আমি ও আপনাদের পাশে আছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে চলমান সরকারের আমলে বিশ্বনাথ ও সিলেট-২ আসনের উন্নয়ন থেমে থাকবে না। তবে ওসমানীনগরের তুলনায় আমি সবসময়ই বিশ্বনাথকে অগ্রাধিকার দেব।”

অনুষ্ঠানে তাহসিনা রুশদী অনুপস্থিত থাকলেও অতিথি হিসেবে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া

এই ঘটনায় সিলেট-২ আসনের বিএনপিতে রাজনৈতিক বলয়, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং দলীয় সমন্বয়ের বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স