ঢাকা

জামায়াতের প্রতিবাদ, জেলা পরিষদে দলঘনিষ্ঠ প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে সরকারের দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে Bangladesh Jamaat-e-Islami। রোববার প্রকাশিত বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল Mia Golam Parwar বলেছেন, সদ্য গঠিত Bangladesh Nationalist Party সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।


গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উপেক্ষিত

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু সরকারের এই পদক্ষেপ সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকারকে ‘দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ’ে নেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,
“জনগণের ভোট ও মতামতকে উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে।”


জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও স্থানীয় সরকারের প্রত্যাশা

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়া। এই লক্ষ্য পূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন জনগণের প্রত্যাশা ছিল, পরবর্তী ধাপে স্থানীয় সরকারগুলোতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।


অবিলম্বে পদক্ষেপের আহ্বান

মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রতি তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন, জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব অর্পণ করতে। তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জন্য এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আরও জোরদার করার জন্য অনুরোধ করেছেন।


রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ৪২ জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াবে এবং স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ সরকারের পদক্ষেপকে জনগণের নজরে অসঙ্গত ও অগণতান্ত্রিক হিসেবে তুলে ধরেছে, যা আগামী সময়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স