বিএনপি সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ‘দলান্ধদের খুশি করার ব্যবস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য জাহিদুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
আবদুল হালিম অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যিনি গত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচার চালিয়েছেন, দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে দলীয় লোকদের পোস্টিং দিয়ে খুশি করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা নিন্দনীয়।”
তিনি আরও বলেন, সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)–এর চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, “যদি সংশ্লিষ্টদের যোগ্যতার ঘাটতির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হতো, তাহলে তা বিবেচনায় নেওয়া যেত। কিন্তু যাচাই–বাছাই ছাড়া পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।”
স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগ বিতর্ক
দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর দাবি, জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি ছয়টি এবং ১৪ মার্চ পাঁচটি সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে বিএনপির নেতা–কর্মী এবং জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী। তাঁর ভাষ্য, “রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সরকার জনগণের মতামত ও গণতান্ত্রিক চেতনা উপেক্ষা করেছে।”
জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে আবদুল হালিম বলেন, ৪২টি জেলায় দলীয় ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি গাইবান্ধা–৩ আসনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে পরাজিত এক প্রার্থীকে জেলা পরিষদের প্রশাসক করা হয়েছে, যা ‘হাস্যকর’।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর পদে নতুন নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আবদুল হালিম। তিনি বলেন, অতীতে আর্থিক খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের গভর্নর করা হয়েছে। কিন্তু এবার একজন ব্যবসায়ীকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর মতে নজিরবিহীন।
রাজনৈতিক বার্তা
ব্রিফিংয়ের এক পর্যায়ে আবদুল হালিম বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা জনগণের অগ্রাধিকার ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। “সরকার যদি বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় করে ভূমিকা রাখতে পারে, সেটি ভালো। না হলে আন্দোলন মাঠেও চলবে, সংসদও উত্তপ্ত হবে,”—বলেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে নিয়োগকে ঘিরে বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে পারে।