কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বুধবার বিকেলে উপজেলার কামাল্লা ইউনিয়ন–এর কামারচর গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করেন গ্রামবাসী ও বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা।
অভিযোগের মুখে থাকা নেতা হলেন ইয়াছিন আরাফাত, যিনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।
বিক্ষোভ ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন ইয়াছিন আরাফাত। তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কামারচর গ্রামের বাসিন্দা হালিমা বেগম, স্থানীয় বিএনপি নেতা খলিলুর রহমান, মাহবুব আলম, নাছির উদ্দীন নয়ন, কামাল উদ্দিন, কামাল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেকুর রহমান এবং কামাল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জামির হোসেনসহ আরও অনেকে।
জমি বিক্রির নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
গ্রামবাসী হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নেন ইয়াছিন আরাফাত। কিন্তু এখন পর্যন্ত জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। উল্টো আরও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চাইতে গেলে তাঁকে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘হাতেনাতে আটক’ ও পাল্টা মামলা
কামাল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজুল ইসলাম দাবি করেন, এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এলাকাবাসী ইয়াছিনকে হাতেনাতে আটক করেছিলেন। পরে তিনি আটককারীদের বিরুদ্ধেই থানায় মামলা করে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বলেন, একজন ছাত্রনেতার এমন কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানান।
দলীয় নোটিশ
গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ইয়াছিন আরাফাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
অভিযুক্তের বক্তব্য
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়াছিন আরাফাত। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। বুধবার রাতে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “যারা এলাকায় মব সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এসবের প্রতিবাদ করায় আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।” তিনি আরও জানান, উপজেলা ছাত্রদলের কাছে তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়া জানতে ব্যর্থতা
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলীয়ভাবে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না—তা নিয়ে এখন স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।