ঢাকা

অভিমত: নতুন সরকারের প্রথম মাস–সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এক মাস পূর্ণ হওয়ায় সরকার কার্যক্রমকে একাধিক দিক থেকে মূল্যায়ন করা যাচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান-এর মতে, সরকারের শুরুটা আশাজাগানিয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক দিকও স্পষ্ট।

ইতিবাচক দৃষ্টান্ত

সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে আশা সঞ্চার করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • সংসদ সদস্যদের অযাচিত সুবিধা যেমন গাড়ি ও প্লট প্রদান না করা।

  • ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, খাল খনন, কৃষক কার্ড বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ।

  • নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া।

টিআইবি প্রধানের মন্তব্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচক এবং জনগণের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা সৃষ্টি করছে।

উদ্বেগজনক দিক

অবশ্য, সরকারের অঙ্গীকার ও কার্যক্রমের মধ্যে কিছু খামতি লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে প্রধান হলো:

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা। পূর্ববর্তী কর্তৃত্ববাদী সময়ে ব্যাংক খাত লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় নিয়োগে সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি ছিল।

  • দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ। এটি তড়িঘড়ি এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

  • স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রশাসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে একচ্ছত্রভাবে দলের অনুগত ব্যক্তিদের নির্বাচন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও আমলাতন্ত্রেও এই ধারা লক্ষ্য করা গেছে।

  • চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিকার না করা ও সরকারের স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া।

এই ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের আশাজাগানিয়া প্রক্রিয়াগুলোর সঙ্গে মিলছে না; বরং রাজনৈতিক একচ্ছত্র দখল ও ‘এবার আমাদের পালা’ মনোভাবের ছাপ রয়েছে।

সংস্কার ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা

সরকারের উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসিত বাংলাদেশ গঠন। এজন্য নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই জাতীয় সনদ এবং ১১টি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী যুগান্তকারী সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি। তবে শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হয়নি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ মনে করাচ্ছে, ক্ষমতার একচ্ছত্র ব্যবহার প্রতিহত করতে, সরকারকে সংবিধান, কমিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নে তৎপর হতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সরকারের অনেক ভালো অঙ্গীকার আছে, তবে তা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে না, যদি না দুর্নীতি প্রতিরোধকে সব কর্মসূচির মূলধারায় নেয়া হয়। প্রতিটি ভুল পদক্ষেপ জনগণকে হতাশ করবে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সুযোগ দেবে।”

সমাপনী মন্তব্য

সরকারের কার্যক্রমের শুরুতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি উদ্বেগজনক প্রবণতাও প্রকাশ পাচ্ছে। এক মাসের মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, সরকারের নেতৃত্ব আশা জাগানিয়া পদক্ষেপের সঙ্গে দেশের মূল কাঠামোয় দলীয়করণের ঝুঁকি ও নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সমন্বিত। সরকারের কার্যক্রমের পরবর্তী সময়ে এই দুই দিকের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধকে প্রধান অঙ্গ হিসেবে নেয়া দেশের সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স