ঢাকা

বন্দর আব্বাস ইস্যুতে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তেহরানের প্রতিবাদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রয়টার্স

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাস এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশ ওমানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে ইরান, যাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ওমানকে ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা

ইরানের বিবৃতিতে ওমানের প্রতি সংহতি জানানো হয়, কারণ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে উদ্দেশ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

ট্রাম্প বলেন, “কেউ এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এতে সব দেশকে সমান আচরণ করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ওমানকে ঘিরে এ ধরনের মন্তব্য উপসাগরীয় কূটনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন ওমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

হামলার পটভূমি ও মার্কিন দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের ড্রোন অভিযানকে লক্ষ্য করে বন্দর আব্বাস এলাকায় হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই ড্রোনগুলো হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।

এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, তারা ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসে একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই কেন্দ্র থেকে আরও ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল।

হামলাটি এমন এক সময়ে হলো, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অস্বীকার করেন।

ইরানের পাল্টা অবস্থান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মার্কিন হামলার জবাবে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। তবে এসব হামলা কোথা থেকে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

এই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে। গত এপ্রিলের শুরু থেকে কার্যকর থাকা এই যুদ্ধবিরতি এখন ভঙ্গের আশঙ্কায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স