ঢাকা

সৌদি আরব–কুয়েত–কাতার–আমিরাতে তেল–গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের একের পর এক হামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক দুই ঘটনায় সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের একটি বড় শোধনাগারে ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোতে এসব হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।


সৌদি আরবে ড্রোন বিধ্বস্ত

সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি Saudi Aramco-এর মালিকানাধীন সামরেফ (SAMREF) তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো মূল্যায়নাধীন। হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইয়ানবু লোহিত সাগর তীরবর্তী একটি কৌশলগত বন্দরনগরী, যেখান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করা হয়।

সামরেফ শোধনাগার সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর একটি অংশ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এ ধরনের স্থাপনা বরাবরই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে থাকে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে আগুন

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে কুয়েতের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হামলার ফলে সেখানে ‘সীমিত’ পরিসরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

Kuwait Petroleum Corporation-এর উদ্ধৃতি দিয়ে Kuwait News Agency জানিয়েছে, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারটি কুয়েত সিটি থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদনক্ষম এই স্থাপনাটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার হিসেবে বিবেচিত। এখান থেকে উৎপাদিত তেল ও পরিশোধিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়।

তবে ড্রোনটি কোথা থেকে বা কারা হামলা চালিয়েছে—এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও বাজারে প্রভাব

সৌদি আরব ও কুয়েত উপসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে তেল ও গ্যাস অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটতে থাকলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে সরবরাহ চেইনে বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হবে।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে হামলার উৎস ও দায় স্বীকার নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার এই ধারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স