ঢাকা

নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, আলোচনা বিভিন্ন বিষয়ে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সম্প্রতি নবনিযুক্ত চার সদস্য প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির নবনিযুক্ত সদস্য রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকে মূলত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুন দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের সঙ্গে দলীয় চেয়ারম্যানের আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন দায়িত্বে তাঁদের করণীয় এবং দলের নীতিনির্ধারণী কাজে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‘দায়িত্ব সর্বাত্মকভাবে পালনের চেষ্টা করব’

সাক্ষাতের বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তাঁরা দলীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। স্থায়ী কমিটিতে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে চেয়ারম্যানের যে চিন্তা রয়েছে, সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্য, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে। তাঁরা সেই দায়িত্ব সর্বাত্মকভাবে পালনের চেষ্টা করবেন।

নতুন চার সদস্যের এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ততার কার্যক্রমও দৃশ্যমান হলো। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চার নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করার পর দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের ভূমিকা কী হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে দলের নেতা-কর্মীদের।

জিয়ার ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে মঙ্গলবার সকালে নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্য শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে যান।

সেখানে তাঁরা পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারপারসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রতি আনুগত্যও প্রকাশ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় দলের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

১৫ আগস্ট স্থায়ী কমিটিতে চার নতুন সদস্য

এর আগে গত ১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের চার নেতা রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন।

এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার নেতাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সদস্যরা তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা কাজে লাগিয়ে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন। একই সঙ্গে তাঁদের সুচিন্তিত পরামর্শ দলের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকা এই চার নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করার ফলে বিএনপির নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে দলটির অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে।

২০১৬ সালের কাউন্সিলের পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

১৯ সদস্যের এই কমিটি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক কৌশল এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে অবস্থান নির্ধারণে এই কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ২০১৬ সালের কাউন্সিলের পর দীর্ঘ সময়ে কমিটির বেশ কয়েকটি পদ বিভিন্ন কারণে শূন্য হয়েছে। কোনো কোনো সদস্যের মৃত্যু, পদত্যাগ এবং অন্যান্য কারণে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে বিভিন্ন সময়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা কয়েকটি পদ পূরণের পাশাপাশি দলের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতেও নতুন নেতৃত্ব যুক্ত হলো।

চারজন যুক্ত হওয়ার পরও একটি পদ শূন্য

নতুন চারজন যুক্ত হওয়ার আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য ছিলেন ১৩ জন। তাঁরা হলেন—তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি বিএনপি মহাসচিবসহ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে তাঁর পদটিও এখন শূন্য হয়েছে।

অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে নেই। ফলে ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে কাঠামোগতভাবে আরও পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুনদের ভূমিকা

বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রীয় ফোরাম হওয়ায় নতুন চার সদস্যের অন্তর্ভুক্তিকে সাংগঠনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো পূরণের মাধ্যমে কমিটির কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির অন্যতম কারণ হিসেবে সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতাকে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর দলীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে চার নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সাক্ষাতে নতুন দায়িত্বের বিষয়ে তাঁদের প্রত্যাশা ও দলের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সামনে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা

চারজন নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির কাঠামো আগের তুলনায় সক্রিয় হলেও কমিটির সব পদ এখনো পূর্ণ হয়নি। কারণ ১৯ সদস্যের কমিটিতে নতুন চারজন যোগ হওয়ার আগে ১৩ জন সদস্য ছিলেন; তাঁদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করায় কার্যত আরও একটি পদ শূন্য হয়েছে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা সদস্যদের বিষয়টিও সামনে রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আরও পরিবর্তন বা নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

তবে আপাতত নতুন চার নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পরিবর্তন এসেছে। তাঁদের সঙ্গে দলীয় চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স