ঢাকা

বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে ক্ষমা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নতুন অঙ্গীকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

পবিত্র রমজান মাসের শেষভাগে আত্মসমালোচনা ও সংযমের বার্তা দিয়ে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নিজের অনিচ্ছাকৃত বক্তব্য বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ‘অপ্রয়োজনীয়’ কথা এড়িয়ে চলবেন এবং আরও দায়িত্বশীলভাবে রাজনীতি করবেন।

বুধবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: আলোচনায় ও সমালোচনায়

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যতম মুখ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা আব্বাস-এর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তাঁর বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটেই রমজানের শেষ দশকে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন,

“আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমার পথচলার শক্তি।”

তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আন্তরিক আলোচনা করেছেন। সেখান থেকে তিনি যে পরামর্শ পেয়েছেন, তা হলো—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় বক্তব্য থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।

তিনি বলেন,

“আমি বিনয়ের সঙ্গে সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছি এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করব।”


আত্মিক যাত্রার সূচনা

রমজান মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন জেলায় তারাবিহ নামাজে অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন। মঙ্গলবার রাতে তাকওয়া মসজিদ-এ কিয়ামুল লাইল আদায়ের মধ্য দিয়ে আত্মিক অনুশীলনের এক নীরব সূচনা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, এই সময়টি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আত্মসমালোচনার। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে ভারসাম্য আনার প্রয়াস হিসেবেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


রাজনৈতিক বার্তা না কৌশলগত পরিবর্তন?

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই অবস্থানকে কেউ দেখছেন ব্যক্তিগত আত্মসমালোচনা হিসেবে, আবার কেউ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তরুণ নেতৃত্বের রাজনীতিতে ভাষা ও ভঙ্গিমা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে দায়িত্বশীলতা ও সংযমের বার্তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

তিনি পোস্টে আরও বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ যখন তীব্র, তখন তরুণ নেতৃত্বের ভাষা ও আচরণ নিয়ে বাড়তি নজর থাকছে। এই প্রেক্ষাপটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ক্ষমা প্রার্থনা ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ কথা পরিহারের অঙ্গীকার তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে কতটা প্রভাবিত করে, তা সময়ই বলবে।

তবে রমজানের শেষভাগে দেওয়া এই বার্তায় তিনি যে আত্মসমালোচনা ও সংযমের পথ বেছে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন—তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স