যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ এবং পুরোনো অবকাঠামোর কারণে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মক আঘাত পেয়েছে। শনিবার দেশটির জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি অচল হয়ে যাওয়ায় চলতি মার্চ মাসে তৃতীয়বারের মতো দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটেছে। এই বিপর্যয় কিউবার স্বাভাবিক জীবনধারাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যা রান্নাবান্না, খাবার সংরক্ষণ এবং হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলেছে।
বিপর্যয়ের কারণ
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন কিউবান ইলেকট্রিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, কামাগুয়ে প্রদেশের নুয়েভিতাস তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি উৎপাদন ইউনিট আকস্মিক বিকল হওয়ায় বিপর্যয় শুরু হয়। এরপর গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য যন্ত্রগুলিতেও একের পর এক গোলযোগ দেখা দেয়। জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাসপাতাল ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে ‘মাইক্রো-আইল্যান্ড’ জেনারেটর ইউনিট ব্যবহার করা হয়।
অবকাঠামো ও জ্বালানিসংকট
কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে গত দুই বছরে দেশে নিয়মিতভাবে দেশব্যাপী বা আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধ কিউবার জ্বালানির ঘাটতিকে আরও তীব্র করেছে। প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন, তিন মাস ধরে দেশটি বিদেশি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কোনো তেল পাননি, ফলে কিউবা তার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে কিউবার তেলের জন্য বিক্রেতা বা সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। সেই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবাকে রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে উদারীকরণের শর্তে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এর পাশাপাশি কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ায় কিউবায় গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রভাব
এই বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কিউবার গ্রিড ব্যবস্থা ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। দেশজুড়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে। সরকারের প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও, বৈদ্যুতিক উৎপাদন এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ এখনও চলমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অবকাঠামোগত সংস্কার ও স্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া কিউবায় এই ধরনের ব্ল্যাকআউট চলতেই থাকবে।
সংক্ষেপে, কিউবার বিদ্যুৎ বিপর্যয় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ, পুরোনো গ্রিড অবকাঠামো এবং ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার যৌথ ফলাফল। এর প্রভাব কিউবার সাধারণ মানুষ, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতিতে মারাত্মকভাবে পড়েছে।