ঢাকা

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় চলমান রদবদল ও বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন দীপেন দেওয়ান। সোমবার (১ জুন) তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সশরীরে সাক্ষাৎ করে তাঁর লিখিত পদত্যাগপত্রটি হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর এই পদত্যাগপত্রটি সদয় গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই প্রবীণ নেতার হঠাৎ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও কৌতুহল তৈরি হলেও, তাঁর মূল পদত্যাগপত্রের কপি থেকে সুনির্দিষ্ট ও প্রকৃত কারণটি জানা গেছে।

পদত্যাগপত্রের মূল বিষয়বস্তু এবং এর ভেতরের খুঁটিনাটি তথ্য নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

পদত্যাগপত্রের অভ্যন্তরীণ বিবরণ ও যৌক্তিক কারণ
প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে দীপেন দেওয়ান অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন ভাষায় তাঁর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, “আমি দীপেন দেওয়ান, এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি নানাবিধ জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি। বর্তমানে আমার এই শারীরিক অসুস্থতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন এবং নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাবিধ দৃশ্যমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

প্রশাসনিক গতিশীলতা রক্ষার তাগিদ
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধির স্বার্থেই তিনি স্বেচ্ছায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে আসীন থাকা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সমীচীন হবে না। তাই রাষ্ট্রীয় স্বার্থে বর্তমান পদ থেকে তাঁর অনতিবিলম্বে অব্যাহতি গ্রহণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। উপযুক্ত ও যৌক্তিক কারণসমূহ বিবেচনা করে তাঁর এই পদত্যাগপত্রটি দ্রুত গ্রহণ করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানান।

প্রবীণ নেতার রাজনৈতিক অবস্থান ও বিদায়
পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে দীপেন দেওয়ান একজন প্রভাবশালী ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগেই তিনি ওই অঞ্চলের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে ছড়ানো কৃত্রিম ভীতি বা ‘জুজুর ভয়’ উপেক্ষা করে পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। পাহাড়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও শান্তি বজায় রাখতে তাঁর নেওয়া বেশ কিছু পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কাছে নতি স্বীকার করে অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিতে হলো। তাঁর এই প্রস্থানের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন কাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা চলছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স