ঢাকা

জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে রিটে পক্ষ হতে এনসিপি ও দুই এমপির আবেদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট মামলায় বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে আবেদন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যও পৃথকভাবে এ রিটে পক্ষ হতে আবেদন করেছেন।

এই দুই সংসদ সদস্য হলেন ঢাকা-১৪ আসনের মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এবং পাবনা-১ আসনের মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন)।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী পৃথক দুটি রিট করেন, যেখানে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং গণভোট অধ্যাদেশের কিছু ধারা ও তফসিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই-পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ায় দলটির সক্রিয় ভূমিকা ছিল এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারও চালানো হয়। তাই বিষয়টির সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা থাকায় রিটে পক্ষ হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করছে।

অন্যদিকে, আবেদনকারী সংসদ সদস্যরা বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাঁরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। এই আদেশের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তাঁদের সেই শপথ ও দায়িত্বও প্রভাবিত হতে পারে। সে কারণে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতেই তারা রিটে যুক্ত হতে চান।

পটভূমিতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করা হয়, যেখানে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি পৃথক সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়।

এ ছাড়া জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বরে গণভোট আয়োজন করা হয়। ওই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সনদের প্রস্তাবগুলো সমর্থন পায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

রিটে আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট ধারা ও তফসিল এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না এবং সেগুলো বাতিলযোগ্য কি না। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে আনা হয়েছে।

আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অবকাশ শেষে আদালত বসলে এ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স