ঢাকা

ইসরায়েলি সিদ্ধান্তে পরিবর্তন: হত্যার তালিকা থেকে বাদ পড়লেন আরাগচি ও গালিবাফ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

তেহরান/ওয়াশিংটন: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে ইসরায়েল সাময়িকভাবে হত্যার তালিকা বা ‘হিট লিস্ট’ থেকে সরিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে একটি সূত্র।

সূত্রটি জানায়, “ইসরায়েলিরা তাঁদের অবস্থান জানত এবং হত্যা করতে চেয়েছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি, যদি তাঁদেরও সরানো হয়, তবে কথার জন্য আর কেউ থাকবে না। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে হত্যা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।”

পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, তারা ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে।


পরিস্থিতির পটভূমি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রথম দিনের ঘটনা অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হন। পরবর্তীতে নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা হামলায় নিহত হন।

বর্তমানে ইরানের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ইসরায়েল দাবি করেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


শান্তি আলোচনার দিকে পদক্ষেপ

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাগচি ও গালিবাফকে চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য তালিকা থেকে সরানো হয়েছে, যা সম্ভবত ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে।

ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে, তবে তাদের শর্তে যুদ্ধ শেষ হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান পাঁচ দফার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে।

পাকিস্তানের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন, তারা ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনো আলোচনার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।


এই পদক্ষেপ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিপাক্ষিক উত্তেজনার মধ্যে সাময়িক শান্তি সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স