ঢাকা

সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ সফরে আহ্বান জানালেন তারেক রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে যুবরাজের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহ প্রধানমন্ত্রীর হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। বৈঠকে জবাবে প্রধানমন্ত্রীও সৌদি যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

পরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

এদিকে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর পরিবেশ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি লেকের পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবনগুলোর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে লেকগুলো দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব হয়।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

অন্য এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলো মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সভায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে নিয়ে এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা চিহ্নিত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সভায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জনবল সংকট, আধুনিক পরীক্ষাগারের অভাব, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের স্বল্পতা এবং অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভেজাল ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মোবাইল কোর্টের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তারা।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স