ঢাকা

ছাত্রশক্তির নেতাকে ‘থানার সামনে ঝুলিয়ে রাখার’ হুমকি, অভিযোগ উঠল ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নেতা বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীর নাম মো. রুহুল আমিন (২২)। তিনি বাউফল উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক। অভিযুক্ত ইফতি আহম্মেদ (শাওন) উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. অহিদুল গাজীর ছেলে। দলীয় সূত্রের দাবি, তাঁর ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকলেও তিনি দলটির সক্রিয় কর্মী এবং উপজেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

দলীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এক বোতলের দুই সিপি, জামায়াত আর এনসিপি।’

এর কিছু সময় পর উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রুহুল আমিন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পাল্টা একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘নৌকা আর ধানের শীষ, দুই সাপের একই বিষ।’

এরপর ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদল কর্মী ইফতি আহম্মেদ শাওন রুহুল আমিনের স্ট্যাটাসের একটি ফটোকার্ড নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করে অশালীন ভাষায় মন্তব্য করেন এবং তাঁকে মারধর করে থানার সামনে ঝুলিয়ে রাখার হুমকি দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদও মন্তব্য করেন। রুহুল আমিনের পক্ষের অভিযোগ, সেই মন্তব্যেও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কর্মীর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই রুহুল আমিন বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহদিউল ইসলাম (শাহীন) বলেন, একজন ছাত্রসংগঠনের নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে এমন বক্তব্যের প্রতি সমর্থনসূচক মন্তব্য আরও দায়িত্বশীল আচরণের প্রশ্ন তোলে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ইফতি আহম্মেদ শাওনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিভিন্ন মাধ্যমেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স