ঢাকা

নেপালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের যাত্রা শুরু বালেন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

কাঠমান্ডু থেকে প্রেরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় এসে স্বল্পসময়ে ব্যাপক সংস্কারের সূচনা করেছেন। শপথ গ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি ১০০ দফার উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা দেশের প্রশাসন ও শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তৈরি।

নতুন মন্ত্রিসভায় নারী সদস্যদের সংখ্যাকে ইতিহাসগতভাবে ৩৩ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে। ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভার মধ্যে পাঁচজন নারী মন্ত্রী রয়েছেন, যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইন, কৃষি, জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য, বিচার ও সংসদবিষয়ক এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। এ পদক্ষেপ নেপালের রাজনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শিক্ষা এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নেপাল সরকার বড় ধরনের সংস্কার শুরু করেছে। সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষকদের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি সংস্থার ভেতরে পরিচালিত দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন বিলুপ্ত করা হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রথাগত পরীক্ষার সংস্কার আনা হচ্ছে; আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো প্রথাগত পরীক্ষা নেওয়া হবে না এবং বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হবে। এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিতে নাগরিকত্বের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।

ছাত্ররাজনীতিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৯০ দিনের মধ্যে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের মতো নির্দলীয় সংস্থা গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক সংঘাতের স্থান বানানো উচিত নয় এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িত সহিংসতা, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও একাডেমিক বিপর্যয় রোধ করা তাদের মূল উদ্দেশ্য।

অপরদিকে প্রশাসনবিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ‘জেন–জি’ বিক্ষোভের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বাস্তবায়নের একদিন পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক মন্ত্রী রমেশ লেখক গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই গ্রেপ্তারি দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে; সিপিএন-ইউএমএল কর্মী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ও গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকে। বিক্ষোভকারীরা সাবেক নেতাদের মুক্তি এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বালেন্দ্র সরকারের এ সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করবে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমাবে এবং শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নত করবে। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা সীমিত হওয়ার ফলে কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমতের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

নেপালের এই নতুন যুগের সূচনা দেশজুড়ে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে দেশটির রাজনীতি ও সমাজে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স