২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় থাকা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নতুন করে আরও দুই থেকে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হতে পারে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের উপস্থিতিতে এ কমিটি গঠন করা হয়। সভায় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন, বিভিন্ন উপকমিটি গঠন এবং সম্ভাব্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
পবিপ্রবির উপাচার্য মূল কমিটির আহ্বায়ক
এবারের জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান। কমিটির সহ-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।
গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মূল কমিটির পাশাপাশি টেকনিক্যাল, ক্রয়, অর্থসহ একাধিক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কমিটি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন ও পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রমের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ পরিচালনা করবে।
দ্রুত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হতে পারে
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, সাম্প্রতিক সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শেষ করা। একই সঙ্গে আগের কমিটির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, আগের ভর্তি পরীক্ষা–সংক্রান্ত কিছু কাজ এবং আর্থিক বিষয়ও সভায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে বা কোনো আর্থিক বিষয় এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে কি না, সেসব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
নতুন কমিটির কার্যক্রম প্রসঙ্গে অধ্যাপক হেমায়েত জাহান বলেন, ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি টেকনিক্যাল, ক্রয়, অর্থসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কমিটি গঠন করতে হবে। নতুন কমিটির আহ্বায়কের সভাপতিত্বে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আরেকটি সভা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে নিজেদের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করেছে। কৃষি গুচ্ছও ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জানিয়েছে। ফলে জিএসটি গুচ্ছের পরীক্ষার তারিখও দ্রুত নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক হেমায়েত জাহান বলেন, নতুন প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে—এমন ধারণা রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেরই এখনো নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও অন্যান্য সক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
এ কারণে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জিএসটি গুচ্ছের আওতায় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও ইউজিসির অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়
২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমে বর্তমানে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলো হলো—
১. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
২. মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৩. পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৪. নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৫. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
৬. যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৭. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৮. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
৯. গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১০. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
১১. রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১২. রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
১৩. ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি
১৪. নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়
১৫. জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৬. চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৭. কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়
১৮. সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৯. পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২০. নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুক্ত হলে গুচ্ছভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয় শেষ পর্যন্ত জিএসটি গুচ্ছে থাকবে এবং ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও অন্যান্য নিয়ম কী হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সভা ও ইউজিসির অনুমোদনের পর জানা যাবে।