বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের মহানগর এলাকাগুলোর স্কুল ও কলেজে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) অনলাইন ও সশরীর ক্লাস মিলিয়ে ‘ব্লেন্ডেড’ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিকল্প পদ্ধতিতে পাঠদান চালুর পরিকল্পনার কথা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে মহানগর এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আংশিক অনলাইনে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই পরিকল্পনার বাইরে রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতি সভা
এদিকে আজ বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার কমানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, স্কুলে শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, অনলাইন ক্লাসের সম্ভাবনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সপ্তাহে নির্দিষ্ট কয়েক দিন সশরীরে ক্লাস এবং বাকি দিনগুলো অনলাইনে পাঠদান হতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।
বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
তবে ব্লেন্ডেড পদ্ধতি বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, ইন্টারনেট সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি–প্রবেশাধিকারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরাঞ্চলে এ পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ফলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে বাস্তবায়ন নির্দেশিকায় বিষয়গুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
করোনা মহামারির সময় দেশে অনলাইন শিক্ষার যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল, তা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এবার লক্ষ্য মূলত স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, বরং জ্বালানি সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপ কমানো।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সিদ্ধান্ত হলে তা দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।