ঢাকা

গণভবন ছাড়ার শেষ মুহূর্ত ও ভ্যানিটি ব্যাগের রহস্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পদত্যাগপত্রের খসড়া ও পরিস্থিতির নাটকীয়তা
মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবিধানিক নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেই দেশ ছাড়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিন পৃষ্ঠার সেই দীর্ঘ চিঠিতে তিনি তাঁর সরকারের বিভিন্ন অবদান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলনের মুখে উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণগুলো উল্লেখ করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একজন স্টাফের মাধ্যমে চিঠিটি অফিশিয়ালি টাইপ করার। কিন্তু ৫ আগস্ট দুপুরে গণভবনের বাইরের পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাচ্ছিল যে, সেটি চূড়ান্তভাবে টাইপ করার মতো পর্যাপ্ত সময় বা সুযোগ আর পাওয়া যায়নি। ফলে হস্তলিখিত সেই খসড়া কাগজটিই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগে থেকে যায়।

সাক্ষাৎকারে শেষ মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরে চারদিক থেকে লাখ লাখ মানুষ যখন গণভবনের একদম কাছাকাছি চলে আসে, তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তারা শেখ হাসহাকে সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘আপনার হাতে আর এক মুহূর্তও সময় নেই, এখনই গণভবন ছাড়তে হবে।’ এমন চরম তাড়াহুড়ো ও উত্তেজনার মধ্যে শেখ হাসিনা তাঁর অতি প্রয়োজনীয় ভ্যানিটি ব্যাগটি ভেতরের একটি চেয়ারের ওপরই ফেলে রেখে বাইরে চলে আসেন।

পরবর্তীতে একদম শেষ মুহূর্তে যখন তিনি হেলিকপ্টার বা গাড়িতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন পাশে থাকা সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমার ব্যাগটা ভেতরে রয়ে গেছে, ওটা একটু নিয়ে আসো।” এরপর সেই সেনা কর্মকর্তা দ্রুত ভেতরে গিয়ে ব্যাগটি এনে দিলে তিনি সেটি গ্রহণ করেন। প্রবীণ এই সাংবাদিকের দাবি, ওই ব্যাগের ভেতরেই রয়ে গেছে ৫ আগস্টের ইতিহাসের সেই বহুল আলোচিত ৩ পৃষ্ঠার মূল পদত্যাগপত্র, যা তিনি সশরীরে কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে যেতে পারেননি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক
মতিউর রহমান চৌধুরীর এই দাবি রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ শেখ হাসিনার পদত্যাগ করা বা না করা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এই প্রবীণ সাংবাদিকের নতুন তথ্যটি যদি সত্য হয়, তবে তা ৫ আগস্টের ক্ষমতা হস্তান্তরের পেছনের দৃশ্যপটকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। তবে এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র বা তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স